বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই, কমিটিতে বিভিন্ন পদে থাকা ও পদবঞ্চিত অনেকেই উক্ত কমিটিকে বৈষম্যমূলক ও স্বজনপ্রীতিমূলক কমিটি বলে অভিযোগ করেছে।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সদস্য সচিব আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি ঘোষণা করা হয়।
সদ্য ঘোষিত কমিটির উপদেষ্টা সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কারাবরণকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বায়ক নূর নবী তার পছন্দ মতো কমিটি বাগিয়ে নিয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ওই কমিটিতে স্থান পাওয়া কয়েকজন।
কমিটিতে থাকা ১৫তম আবর্তনের ফয়সাল মুরাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, অভিনন্দন সকলকে! নূর নবী তুমি জিতে গেছো কিন্তু একটা প্লাটফর্মের ক্রেডিবিলিটি নষ্ট করে দিছো। তোমার কুমিল্লা লবিং দারুণভাবে কাজ করেছে। যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তর স্বপ্ন দেখছিলো তারা অন্ততপক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতারিত হলো। তোমার সেট করা কমিটির আহ্বায়ক, ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকা কোনো প্রোগ্রামে অংশ না নেওয়া। আমাদের মাঠে রেখে পাঠিয়ে যাওয়া নেতা। তোমার সেট করা সদস্য সচিব ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে গেছিল আরও আগে। তোমার সেট করা মুখপাত্রের ৫ আগস্টের আগে কোনো ভূমিকা নাই।
কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহিন মিয়া লিখেছেন, এই কমিটি নাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন না দিয়ে এটা নূরনবীর পা চাটা আন্দোলন কমিটি দিলে ভালো হতো। আর আমাকে না জানিয়ে আমার নাম কমিটিতে রাখায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি সাধারণ শিক্ষার্থী হয়ে থাকতে চাই।
আরেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফেরদাউস শেখ লিখেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি আবেগ এর প্লাটফর্ম। জবিতে এই কমিটি গঠন বিষয়ে আমাকে কিছু না জানিয়ে নাম দেওয়া হয়েছে, যেখানে আমার নামটাও সঠিকভাবে লিখতে পারেনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কমিটি মূলত একটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত কমিটি, ঢাকা কলেজ এর মতো একটি জায়গায় যদি ৩০০ জনের কমিটি দিতে পারে তাহলে জবি তে কেন নয়! কারণ অধিক সদস্য নিয়ে কমিটি দিলে তার একক নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। সেই ব্যাক্তির ইচ্ছার বাইরে আর কাউকে কমিটিতে স্থান দেবে না সে। যেহেতু এই কমিটি আমার অনেক সহযোদ্ধা বড় ভাই, বন্ধু ও ছোট ভাইকে মাইনাস করা হয়েছে সুকৌশলে, তাই এই কমিটিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। পাশাপাশি নিজে অব্যাহতি নিচ্ছি এই সিন্ডিকেট কমিটি থেকে।
এসম্পর্কে তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, কোনো পদ পাওয়া বা না পাওয়া নিয়ে তাদের ক্ষোভ নেই, তাদের একটাই ক্ষোভ যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস আন্দোলন পর্যন্ত সক্রিয় ছিল তাদের অনেককে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ট্যাগ দিয়ে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এটা হয়েছে একমাত্র নূর নবীর কথায়। তারা এই কমিটিতে থাকবে কিনা জানতে চাইলে তারা জানান, এই কমিটিকে তারা অবাঞ্চিত ঘোষণা করবে। তারা ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে থাকতে চায়।
কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা ও সদস্য সচিব হিসেবে আছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হাসান সাকিব। উল্লেখ্য, উক্ত কমিটি আগামী ৬ মাসের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।