চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে পাকিস্তানে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয় কিউইদের

ইনজুরির কারণে লকি ফার্গুসন, বেন সিয়ার্স, ম্যাট হেনরি এবং রচিন রবীন্দ্রকে ছাড়াই পাকিস্তানের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল নিউজিল্যান্ড। করাচিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৪২ রানে সীমাবদ্ধ থাকে স্বাগতিকরা, এরপর টম ল্যাথাম ও ড্যারিল মিচেলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২৮ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কিউইরা।

প্রধান বোলারদের অনুপস্থিতিতে এগিয়ে আসেন উইল ও'রউর্ক, যিনি ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারকে ভেঙে দেন। অন্যদিকে, মিচেল স্যান্টনারের নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডের স্পিনাররা মধ্য ওভারে রানের লাগাম টেনে ধরে। পাকিস্তান দারুণ সূচনা পেলেও পরে ছন্দ হারিয়ে ফেলে, যার ফলে ২৪২ রানের মাঝারি সংগ্রহেই থেমে যায়।

২৪৩ রানের লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ছিল গোছানো। দ্বিতীয় উইকেটে ডেভন কনওয়ে ও কেন উইলিয়ামসনের ৭১ রানের জুটিতে ভিত গড়ে ওঠে। এরপর মধ্য ওভারে ড্যারিল মিচেল এবং টম ল্যাথামের ৮৭ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। মিচেল তার সুইপ ও রিভার্স সুইপের নান্দনিক প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের স্পিনারদের বিভ্রান্ত করেন। শেষদিকে মাইকেল ব্রেসওয়েল ও গ্লেন ফিলিপস ম্যাচ শেষ করেন সহজেই।

ল্যাথাম এদিন ৬৪ বলে ৫৬ রান করেন, যা তার সাম্প্রতিক অফ-ফর্ম কাটিয়ে ওঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বেশ কয়েকবার জীবন পান—১৫ রানে শাহীন শাহ আফ্রিদি ক্যাচ ফেলেন, ২৯ রানে তাকে ফেরানোর সুযোগ নষ্ট করেন সৌদ শাকিল। এছাড়া, ১৩ রানে থাকা অবস্থায় আব্রার আহমেদ এলবিডব্লিউর আবেদন না করায় পাকিস্তান রিভিউ নেয়ার সুযোগ হারায়, যা পরে রিপ্লেতে আউট বলে প্রমাণিত হয়।

এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখল নিউজিল্যান্ড। পাঁচ দিন পর একই ভেন্যুতে হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচ, যেখানে আবার মুখোমুখি হবে এই দুই দল। করাচির কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ড ইতিমধ্যে নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়ে দিয়েছে, যা পাকিস্তানের জন্য সতর্ক সংকেত হয়ে থাকল।