ভালোবাস দিবসে ফুল বিক্রি করায় দোকান ভাঙচুর

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বসন্ত ও ভালবাসা দিবসে ফুল বিক্রি করায় দোকান ভাঙচুর করেছে তৌহিদী জনতা। এ সময় তারা ‘ভালবাসা দিবস, ভালবাসা দিবস চলবে না, চলবে না’ প্রেমিক-প্রেমিকার গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে’সহ নানা স্লোগান দেয়। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তৌহিদী জনতা ভূঞাপুর থানা সংলগ্ন কলেজ রোডে মামা গিফট কর্নারে ভাঙচুর করে। এ ছাড়া বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বিক্ষোভ করে। 

ভূঞাপুরে ফুলের দোকান ভাংচুরের পর আজ শনিবার পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোপালপুরের ঘুড়ি উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজারের পাশে এই উৎসব হওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার ওই এলাকায় উৎসববিরোধী লিফলেট বিতরণ করা হয়। 

আয়োজকরা জানান, ওই লিফলেট বিতরণের পরও তারা ঘুড়ি উৎসব বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ভূঞাপুরের ফুলের দোকানে হামলার ঘটনার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর উৎসব না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন তারা। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

উৎসবের অন্যতম সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জু আনোয়ারা বলেন, প্রতিবছর উৎসবে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তিন-চার শতাধিক শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীরা ঘুড়ি ওড়াতে আসেন। এ উপলক্ষে সেখানে লোকজ গানের আয়োজনও করা হয়। এবার উৎসবের বিরোধিতা করে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সরাসরি এসে কেউ বাধা দেননি। তবে শুক্রবার পাশের উপজেলা ভূঞাপুরে ফুলের দোকানে হামলার ঘটনার পর ঘুড়ি উৎসব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শনিবার গোপালপুর উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে ফোন করে উৎসব করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে ঘুড়ি উৎসব আয়োজন করা নিরাপদ মনে করছি না।

উদীচী ভূঞাপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মেহেদী হাসান জানান, ভালবাসা দিবসের বিভিন্ন ঘটনার কারণে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে বসন্তবরণের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে বসন্তবরণ অনুষ্ঠান করা হবে। 

ফুলের দোকানদার আলম জানান, দোকানে ফুল বিক্রি করি দীর্ঘদিন ধরে। বিকেলে কিছু লোকজন এসেই আক্রমণ দোকানে ভাঙচুর করে ফুলগুলো রাস্তায় ফেলে দেয়। ভালবাসা দিবসে কেন ফুল বিক্রি করছি সেটাই অপরাধ। আরেকটি দোকান ভেঙেছে তাও কিছু বলিনি। আগেরদিন তারা নিষেধ করে গিয়েছিল। 

এ বিষয়ে গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, ঘটনার বিষয়টি জানা নেই। ঘুড়ি উৎসব বন্ধ হওয়ার বিষয়েও কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তুহিন হোসেনকে সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। 

উল্লেখ্য কয়েক বছর ধরে ‘আমরা গোপালপুরবাসী’ ফেসবুক গ্রুপ, শুভশক্তি বাংলাদেশ ও মুক্তিযোদ্ধা নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ উৎসবের আয়োজন করে আসছে।