তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, পাকিস্তানের ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি ও ভারতের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম-আদমি পার্টির উত্থান কাঠামোর প্রতি দৃষ্টি রেখে গড়ে তোলা হচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল। গতকাল শনিবার বিকেলে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ বিষয়ে জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, পাকিস্তানের ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি ও ভারতের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম-আদমি পার্টির উত্থান এবং তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলা ও তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম-বিস্তারকে পর্যালোচনা করে পার্টিগুলোর কাঠামোর প্রতি দৃষ্টি রেখেই গড়ে তোলা হচ্ছে ছাত্রদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল। ঘোষণা আসছে শিগগিরই।
সম্প্রতি এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা একটা মধ্যমপন্থি রাজনীতির কথা বলছি। আমরা বাম-ডান এমন যে বিভাজন আছে সেগুলোতে ঢুকতে চাই না। আমরা বাংলাদেশ প্রশ্নে এক থাকতে চাই। ইসলাম ফোবিয়ার রাজনীতি অথবা উগ্র ইসলামপন্থি বা উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মধ্যেও আমরা নেই।’
আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা ডানের দিকেও ঝুঁকব না, বামের দিকেও ঝুঁকব না। সাম্য, ন্যায়বিচার, সুশাসনকে ঘিরে আমরা হব একটা মধ্যপন্থি দল, যেন আমরা সব ধরনের মানুষকে ধারণ করতে পারি।’
এদিকে দলের হাল ধরতে চলতি মাসের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন নাহিদ ইসলাম।
দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশন স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা যারা গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলাম, মূলত ছাত্ররাই এটার নেতৃত্বে ছিল। ছাত্র এবং গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে একটা নতুন রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা বা আলোচনা রয়েছে। সেই দলে যদি অংশগ্রহণ করতে হয় তবে অবশ্যই সরকারে থেকে সেটা সম্ভব না। সে দলে যদি আমি যেতে চাই তবে সরকার থেকে আমি পদত্যাগ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যেহেতু সরকারে একটা স্থিতিশীলতা এসেছে, যদিও প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ হয়নি, কিন্তু সেটা চলমান আছে। আমাদের এখন রাজনৈতিক দলের কাজটা বেশি জরুরি। সেখানে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিন্তাভাবনা করছি। যদি সরকারে থাকার চেয়ে জনগণের সঙ্গে মাঠে কাজ করাটা বেশি জরুরি মনে হয় তাহলে আমি সরকার ছেড়ে দেব এবং হয়তো সে দলের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হব।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ঘোষণা হয়েছে যে, এ মাসেই দল গঠন হবে। যদি তাই হয় তবে এ মাসেই সরকার ছেড়ে দলে অংশ নেব। আর কয়েক দিনের মধ্যেই একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবাই পাবেন, আপনারা জানতে পারবেন।’