যাত্রী কল্যাণ সমিতি

অসহায় যাত্রীদের সিএনজি চালকের হাতে তুলে দিল সরকার

মিটারে না চালানোর একদফা দাবিতে রাজধানীজুড়ে তাণ্ডব চালানো সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের কাছে নতিস্বীকার করেছে পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। সংস্থাটি মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী অটোরিকশার বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশনা বাতিল করে অসহায় যাত্রীদের নগরজুড়ে তাণ্ডব চালানো সিএনজি চালকদের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

আজ রবিবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর পাঠানো বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৩ হাজার করে ২৬ হাজার ৯৯৬টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার রিপ্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তার পরিবারের আর্শিবাদে বিআরটিএর কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি, ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ, অটোরিকশা উত্তরা মোটরের কিছু ডিলার মিলে এক ভয়াবহ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। 

তারা সিএনজি অটোরিকশার রিপ্লেসমেন্ট খাত থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। এদের একেকজন এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। এই কারণে ৩ লাখ টাকার এক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এখন ৩০-৩৫ লাখ টাকা। তৎকালীন সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিবার এইখাতে সরাসরি জড়িত থাকায় তৎসময়ে কেউ টু শব্দ করার সাহস পাইনি। সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আত্মগোপনে চলে গেলেও সিএনজি অটোরিকশা খাতের এই আওয়ামী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে। 

ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিপ্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বিআরটিএ’র শীর্ষ কর্মকর্তারা গত একদশক ধরে এখনো ঘুরেফিরে ঢাকা-চট্টগ্রামে স্বপদে বহাল রয়েছে। তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে উল্লেখিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট নানান আন্দোলনে উস্কে দিচ্ছে। তারা একেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সোনার ডিম পাড়া হাসের মত মনে করেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী এই সিন্ডিকেটটি বর্তমান সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শিথিলতা, সরকারের দুর্বলতাকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা কখনো এক যুগ আগে যাচাই-বাছাইতে বাদ পড়া অস্থিত্বহীন মিশুক অটোরিকশা রিপ্লেসমেন্টের প্রক্রিয়া রাতারাতি করে নিতে চাই। আবার কখনো ঢাকা মহানগরীতে ৫ হাজার চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৪ হাজার চালকের নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার দাবি নিয়ে কখনো বিআরটিএ’র সদর কার্যালয় ঘেরাও করে, কখনো সচিবালয়ের সামনে, প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন করে। এই সিন্ডিকেটের নির্দেশে সিএনজি অটোরিকশা খাতকে আলোচনায় রেখে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের লক্ষ্যে বিআরটিএকে দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে না চালালে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার পুরনো আইনটি আবারও নতুন করে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করার ব্যবস্থা করে। 

আইন জারির পর পর কতিপয় সিন্ডিকেটধারী সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা চালকদের উস্কে দিয়ে আজ সকাল থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ রেখে নগরজুড়ে তাণ্ডব চালায়। এমন পরিস্থিতিতে বিআরটিএ এই সিন্ডিকেটের কাছে নতিস্বীকার করে অসহায় যাত্রীদের তাণ্ডব চালানো সিএনজি অটোরিকশার চালকদের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

এমন পরিস্থিতিতে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের কাছে বিআরটিএ’র নতিস্বীকার নগরজুড়ে তাণ্ডবকারী চালকদের হাতে অসহায় যাত্রীদের তুলে দেওয়ায় বিআরটিএ’র মত এমন একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জনগনের টাকায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রী অধিকার সুরক্ষায় নিয়োজিত এই সংগঠনটি।