২০২৫ সালে ইউটিউব পার করল ২০ বছর। এ উপলক্ষে কোম্পানিটির নির্বাহী পরিচালক নীল মোহন বার্ষিক চিঠিতে নতুন কিছু তথ্য তুলে ধরেন।
নীল মোহন জানান, ‘টিভি ব্যবহার করলেও বিশ্বব্যাপী মানুষ ইউটিউবের মতো আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভিডিও দেখছে, যা পুরনো কেবল টিভির মতো নয়। ইউটিউব শর্টস যখন টিভিতে দেখা হয় তখনো তা মোবাইল স্ক্রিনের মতোই (উল্লম্ব) দেখা যায়। এ বিষয়ে তিনি কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রতি মোবাইল ডিভাইস ও বড় পর্দা উভয়ের জন্যই কনটেন্ট তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ লক্ষ্যে ইউটিউব সীমিত পরিসরে একটি নতুন ফিচারের পরীক্ষা চালাচ্ছে, যার নাম ‘ওয়াচ উইথ’ বলে জানান নীল মোহন। ফিচারটি নির্মাতাদের গেমস ও ইভেন্টের সময় তাদের নিজস্ব লাইভ মন্তব্য এবং রিয়েল-টাইম প্রতিক্রিয়া যোগ করার সুযোগ দেবে। এখন পর্যন্ত এ পরীক্ষা মূলত খেলাধুলার কনটেন্টকে ঘিরে থাকলেও ২০২৫ সালে এটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বার্ষিক চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউটিউব বিজ্ঞাপন টুলসের ক্ষেত্র ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে, যেমন কিউআর কোড ও পজ স্ক্রিন বিজ্ঞাপন। এগুলো ভোক্তাদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলছে। মোহন আরও উল্লেখ করেন, ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের টুল ও রিসোর্স সরবরাহের মাধ্যমে তাদের কনটেন্টভিত্তিক ব্যবসা গড়ে তুলতে সহায়তা করতে চায়। যদিও আয়ের সবচেয়ে সুস্পষ্ট উপায়গুলোর মধ্যে বিজ্ঞাপন একটি, তবে অন্য পদ্ধতিগুলোও সফল হয়েছে বলে জানান তিনি। উদাহরণস্বরূপ ২০২৪ সালে সর্বাধিক সফল চ্যানেলগুলোর অর্ধেকই ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞাপন বা ইউটিউব প্রিমিয়াম রেভিনিউ শেয়ারের বাইরে অন্য উৎস থেকেও বেশ কিছুটা আয় করতে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে কেনাকাটার ভিডিও ও সুপারিশভিত্তিক কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
কনটেন্টের ধারণা তৈরিতে নির্মাতাদের সহায়তার জন্য আরও টুল যোগ করার পরিকল্পনা করছে ইউটিউব, যেমন আরও ভালো থাম্বনেইল তৈরি করা। এছাড়া ইউটিউব এআই ব্যবহার করে ভিডিওগুলোকে বিভিন্ন ভাষায় ডাব করতে পারছে, যা সম্ভাব্য দর্শকসংখ্যা বাড়াচ্ছে।
ইউটিউব আরও উল্লেখ করছে যে এটি সৃজনশীল শিল্পের সঙ্গে একটি ‘পাইলট’ প্রকল্পে কাজ করছে, যা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের (ইনফ্লুয়েন্সার) এবং তাদের কনটেন্টকে অসদুপায় ব্যবহারের হাত থেকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।