বান্দরবানের লামা থেকে অপহৃত ২৬ জন রাবার শ্রমিকের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ জন মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আজ মঙ্গলবার ভোরে লামা উপজেলার ফাসিয়াখালী সীমান্তবর্তী মুরুং ঝিরি পাড়া এলাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তারা হলেন— মো. ফারুক, মো. আইয়ুব আলী, মো. সিদ্দিক, মো. আব্দুল খালেক, আব্দুল মাজেদ, মনিরুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, মো. মোবারক, মো. হারুন, সৈয়দ নুর, রমিজ উদ্দিন, মো. কায়ছার, মো. মনির হোসেন, মো. ইমরান, মঞ্জুর, আফসার আলী, মো. খাইরুল আমিন, আবু বক্কর, আবদুর রাজ্জাক ও মো. মবিনের নাম জানা গেছে। তারা কক্সবাজার জেলার রামু ও ঈদগাহ এবং বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার রাতে মুরুং ঝিরি পাড়া থেকে ২৬ জন রাবার শ্রমিককে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অভিযানে টের পেয়ে স্থান পরিবর্তন করতে থাকলে ২৫ জনের মধ্যে একজন পালিয়ে আসে। অবশিষ্ট ২৫ জন শ্রমিককে ভোরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ মাধ্যমে রাবার শ্রমিকদের ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।
রাবার কোম্পানির মালিক ফোরকান বলেন, ‘১০ লাখ টাকা মুক্তিপনের মাধ্যমে শ্রমিকদের ছেড়ে দিয়েছে।’
তবে ছাড়ার আগে শ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘সকালে অপহৃত ২৫ জন রাবার শ্রমিকদের ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারীরা।’
বান্দরবান পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, ‘অপহরণকারীরা শ্রমিকদের ছেড়ে দিয়েছে খবর পেয়েছি। তারা ছেড়ে পেয়ে নিজ বাড়িতে চলে গেছে।’
উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারিতে একই উপজেলার সরই ইউপি থেকে দুই দফায় ১৪ জন শ্রমিককে অপহরণ করেছিল সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অক্ষত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে রবিবার দুপুরে সশস্ত্র একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে ২৬ জন রাবার শ্রমিককে জিম্মি করে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ১ শ্রমিক সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সোমবার পালিয়ে আসে। পরে বাকি ২৫ জন শ্রমিককেও মুক্তি দেয় সন্ত্রাসীরা।