ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে আগামী বছর থেকে আইপিএল-স্টাইলের ওপেন নিলাম চালুর দাবি জানাচ্ছেন নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা। তারা মনে করেন, বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্বসেরা ক্রিকেটারদের দলে টানা কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমানে হান্ড্রেডের প্লেয়ার ড্রাফট সুনির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের স্তরের মধ্যে পরিচালিত হয় এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পর্যায়ক্রমে খেলোয়াড় বেছে নেয়। তবে নতুন মালিকরা খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের সীমা তুলে দিয়ে ওপেন বিডিং চালুর পক্ষে জোর দিচ্ছেন।
এই মৌসুমে হান্ড্রেডের পারিশ্রমিকের পরিমাণ ২৫% বৃদ্ধি পেলেও, সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক যথাক্রমে পুরুষদের জন্য ২ লাখ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২.৫ কোটি টাকা) এবং নারীদের জন্য ৬৫,০০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮৩ লাখ টাকা)। অথচ, জস বাটলার ও জোফরা আর্চার আইপিএলে যে পরিমাণ অর্থ পাচ্ছেন, তা পুরো একটি হান্ড্রেড দলের বাজেটের চেয়েও বেশি!
হান্ড্রেডের পুরুষ বিভাগে ১৫ জন খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ ১.১৭ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪.৭ কোটি টাকা) বাজেট বরাদ্দ, যা আইপিএলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত চুক্তির চেয়েও কম! রিশাভ পান্ত আইপিএলে এবার লখনৌ সুপার জায়ান্টসে ২.৫৪ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩২.৪ কোটি টাকা) পারিশ্রমিক পাবেন।
হান্ড্রেডের নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আছেন ভারতের আম্বানি পরিবার (যারা ওভাল ইনভিন্সিবলসের ৪৯% মালিক) এবং সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারীরা, যারা লন্ডন স্পিরিটের অংশীদারিত্ব নিতে ১৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা) খরচ করেছেন।
তবে হান্ড্রেডের পারিশ্রমিক এখনও আইপিএলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না, যার ফলে খেলোয়াড়দের অন্য লিগে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি অ্যালেক্স হেলস যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি) ও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) খেলার জন্য হান্ড্রেডকে উপেক্ষা করেছেন। একইভাবে স্টিভ স্মিথ ও প্যাট কামিন্সও গত বছর এমএলসি-তে গিয়েছিলেন বেশি পারিশ্রমিকের কারণে।
এই বাস্তবতায়, শতভাগ ওপেন নিলামের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, যদিও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ও খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন (পিসিএ) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে।
নতুন এই প্রস্তাবে খেলোয়াড়দের সংগঠন পিসিএ আপত্তি তুলতে পারে, কারণ তাদের আশঙ্কা পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সুবিধা কেবলমাত্র বিদেশি খেলোয়াড়রাই বেশি পাবেন। এর আগে ইসিবি পারিশ্রমিক কাঠামো ঘোষণার সময় লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে সমালোচিত হয়েছিল।
নতুন বিনিয়োগকারীরা চাচ্ছেন, টুর্নামেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবং বিশ্বমানের ক্রিকেটারদের আকৃষ্ট করতে হান্ড্রেডে ওপেন নিলামের ব্যবস্থা চালু করা হোক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, যখন ফ্র্যাঞ্চাইজির নির্বাহীরা ইসিবির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।