একটা বয়সের পর অনেকেই আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভোগেন। এর ব্যথা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর্থ্রাইটিস ব্যথা কমাতে জীবনযাপনের পরিবর্তনের পাশাপাশি ডায়েটেও পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি অস্টিওআর্থ্রাইটিস থেকে রেহাই পেতে ওজন কমানোও দরকার। প্রতিদিন আধা ঘণ্টা করে সপ্তাহে ৫ দিন হাঁটলে উপকার পাবেন। তবে জগিং, স্কিপিং ইত্যাদি করবেন না। এতে ব্যথা বাড়তে পারে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে কোন খাবার খাবেন এবং কী খাবেন না, তা জেনে নেওয়া যাক।
শাকসবজি খাওয়ার ওপর অবশ্যই জোর দিন। সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে মাছও খাবেন। স্টিমড, পোচড কিংবা ঝোল, যেভাবে ইচ্ছা। মাছের তেল ব্যথা থেকে রক্ষা করবে।
প্রতিদিন একটু করে আদা খাওয়ার অভ্যাস করুন। দিনে তিনবার ৫ গ্রাম করে আদা খেলে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা থেকে আরাম পাবেন। রান্নায় ব্যবহার করুন অথবা সরাসরি রসও খেতে পারেন।
লো সোডিয়াম ডায়েট এ ক্ষেত্রে আদর্শ। টাটকা ফল, সবজি, জোয়ার, বাজরা, বাদাম, ডাল ইত্যাদি খাওয়া ভালো। প্রতিদিন ২ চামচ করে ফ্ল্যাক্সসিড খেলেও ব্যথা কমবে।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, রসুন, পেঁয়াজ ইত্যাদিতে বেশি মাত্রায় সালফার থাকে, যা হাড় ও কার্টিলেজ মেরামত করতে পারে। কাঁচা আনারসে থাকে ব্রোমেলেইন, যা ব্যথা কমাতে উপযোগী।
ডিহাইড্রেশন থেকে কিন্তু ব্যথা আরও বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া একান্তই দরকার। প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর এক গ্লাস করে পানি খান।
সবজির রস এবং টাটকা ফলের রসে থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এ ছাড়াও বিভিন্ন সবুজ সবজির সালাদ, সয়া বাদাম, আমন্ড, আখরোট এবং অন্যান্য ড্রাই ফ্রুটসেও প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। এ ছাড়াও ভিটামিন এ, সি-এর সাপ্লিমেন্টসও নিতে পারেন।
গ্লুকোসামিন এবং কনড্রয়েটিন সালফেট নতুন কার্টিলেজ তৈরি করতে সাহায্য করে। ফলে সেলুলার লেভেলে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে এগুলো উপকারী। এদের সাপ্লিমেন্টসও বাজারে পাওয়া যায়। তবে এগুলো খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই দরকার।
রেড মিট, ভাজাভুজি, চিনি, ময়দা, পাউরুটি, পাস্তা, পেস্ট্রি, কোল্ড ড্রিঙ্কস, অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
ভেজিটেবল অয়েল ব্যবহারের সচেতন
থাকুন। এতে ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা ব্যথা বাড়াতে পারে। অলিভ, ক্যানোলা, সরষে, নারকেল, রাইস ব্র্যান তেল ব্যবহার করা ভালো।