মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে শেষ হয় তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন। গত রবিবার শুরু হয় এ সম্মেলন। ৩৪টি অধিবেশন ছিল এবারের আয়োজনে। ৩০টি কর্ম অধিবেশনের বেশিরভাগই অনুষ্ঠিত হয় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। ৩৫৪টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা। এবারই প্রথম ডিসি সম্মেলনে অংশ নেয় নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ডিসিদের বৈঠক শেষে তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে ইসির যতটুকু ক্ষমতা আছে তার সর্বোচ্চটা প্রয়োগ করবে। একই সঙ্গে সারা দেশের জেলা প্রশাসকরা যাতে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করেন সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনায় উচ্চপর্যায়ের কোনো চাপ ডিসিদের ওপর যাবে না। যদি চাপ আসে সেটা ইসি অবজারভ করবে। সুতরাং মাঠপর্যায়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে হবে। কোনো ব্লেমিং গেম শোনা হবে না। কার কারণে কী করতে পারেনি, এসব শোনা হবে না।’
‘ইউনিভার্সাল মিলিটারি ট্রেনিং’ চেয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলার প্রশাসকরা (ডিসি)। প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ বলেন, ‘ডিসিদের পক্ষ থেকে যুবসমাজের জন্য ইউনিভার্সাল মিলিটারি ট্রেনিং দেওয়া যায় কি নাÑ এমন প্রস্তাব এসেছে। যুবারা মিলিটারি ট্রেনিং পেতে পারেন; দেশের প্রতিরক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল জেনারেল স্টাফ এ নিয়ে সুন্দর কথা বলেছেন। এটা ভালো দিক, তবে সিদ্ধান্তটা রাজনৈতিক। সরকার চাইলে সামরিক বাহিনী প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমরা চিন্তা করতে পারি। সরকার চাইলে, নির্দেশনা পেলে সশস্ত্র বাহিনী করতে প্রস্তুত।’
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ বলেন, ‘যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রত্যেক উপজেলায় ও ইউনিয়নে আনসার-ভিডিপির একটি কোম্পানির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এটা সীমিত পর্যায়ে ইতিমধ্যে হচ্ছে। ডিসিরা এটিকে আরও ব্যাপক আকারে করার প্রস্তাব করেছেন।’
মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে সামরিক বাহিনী সম্পৃক্ত হয়ে আরও কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা যায় সেটি ভাবা হচ্ছে। ডিসিরা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম হয়, সেটির সংখ্যা বাড়ানো ও ডিভিশন পর্যায়ে করার প্রস্তাব দিয়েছেন।’
আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে মেধাবীরাই সাধারণত প্রশাসন ক্যাডারে আসেন। বিগত ফ্যাসিস্টরা দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী ডিসিদের (জেলা প্রশাসক) জনগণের নিপীড়নে কাজে লাগিয়েছে। আমরা চাই আগামী দিনে যারা ক্ষমতায় আসবেন, প্রশাসন ক্যাডারের এই অসীম সম্ভাবনাগুলোকে যেন জনগণের নিপীড়নে কাজে না লাগায়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ডিসিরা আসলেই অনেক কিছু জানেন। কম্পিটিটিভ পরীক্ষার মাধ্যমে সবচেয়ে মেধাবী মানুষরাই প্রশাসনে আসেন এবং ডিসি হিসেবে কাজ করেন। রাষ্ট্রের এত বড় একটা রিসোর্সকে গত ফ্যাসিজম জনগণকে অত্যাচার-নির্যাতন করার জন্য এবং নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য ব্যবহার করেছে।’ আগামী দিনে নির্বাচিত সরকারের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা আশা করব আগামী দিনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, কোনোদিনই যেন আমাদের প্রশাসন ক্যাডারের অসীম সম্ভাবনাগুলোকে জনগণের নিপীড়নে কাজে না লাগায়। আমাদের সংবিধানে যেমনটা বলা হয়েছে, জনগণের সেবা করার কাজে যেন তাদের লাগানো হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি তাদের (ডিসি) ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি, বিশেষ করে রাষ্ট্রের সেবা করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সুন্দর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যদি আমরা তাদের কাজে লাগাতে পারি, তাহলে আগামী দিনে দেশের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব। মনে করি সেটুকু মানসিকতাও ওনাদের আছে।’
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, গণহত্যা যে আওয়ামী লীগ ঘটিয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সেই জায়গা থেকে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের একধরনের শাস্তি নিশ্চিত হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি। তবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে উদ্ধৃত করে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, যারা আওয়ামী লীগ করেছেন, কিন্তু কোনো প্রকার অন্যায় এবং গণহত্যা কিংবা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, তারা ক্ষমা চেয়ে আবার মূল ধারায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারেন। ব্যক্তিগতভাবে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পক্ষে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তবে তিনি এও বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে হয়নি। জনপ্রতিনিধি নির্বাচন অথবা প্রশাসক (পূর্ণকালীন) নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলো পরিচালনা করার বিষয়ে খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত আসবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যদি তারা (আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী) বিক্ষিপ্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে সরকারের অবস্থান কী হবে? এ প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেখুন, যারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত এবং বিভিন্ন সময়ে, বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে জনগণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন, তাদের অধিকাংশই এখন পলাতক অবস্থায় আছেন। গণহত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে বিধায় তারা পলাতক অথবা কারাগারে রয়েছেন। ইতিমধ্যে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা আওয়ামী লীগ করেছেন, কিন্তু কোনো প্রকার অন্যায় এবং গণহত্যা কিংবা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, তারা ক্ষমা চেয়ে আবার মূলধারায় (মেইনস্ট্রিম) স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারেন এবং সেই জায়গা থেকে যদি কেউ নির্বাচন করেন, তাতেও কোনো বাধা নেই। কিন্তু কেউ যদি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তো কোনোভাবেই নির্বাচনে আসতে পারবেন না।’
আগামী নির্বাচনে জেলা প্রশাসকরা নির্ভয়ে ও নির্ভার হয়ে কাজ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, এবার তাদের (ডিসি) ওপর কোনো ইনফ্লুয়েন্স থাকবে না যে, ভোট এভাবে করতে হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এবারের নির্বাচন তো নির্দলীয় ব্যবস্থাপনায় হবে। কাজেই ডিসিদের এবার দলীয় তকমা থাকার কোনো কারণ নেই। তারপরও কোনো ডিসিকে নিয়ে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের আপত্তি থাকে, সেটা জানালে তা যৌক্তিক কারণ কি না সেটা আমরা দেখব।
এ সময় নিজ মন্ত্রণালয়ের নানা উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলাগুলোতে নদ-নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে জেলা প্রশাসকদের উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে। পাহাড়ের তালিকাটা আমরা পেয়েছি। পাহাড় কাটলে আগে শ্রমিকদের ধরা হতো, এখন থেকে মালিককে ধরা হবে।
বন দখলমুক্ত করার কাজ ধরেছি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, মধুপুর শালবনের সীমানা নির্ধারণ করে এর আগের রূপ ফিরিয়ে আনা হবে। বৈঠকে সংরক্ষিত বনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বন থাকে ডিসিদের নামে। বন উদ্ধারে ডিসিদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বনের পাশাপাশি দ্বীপ যেমন সেন্টমার্টিন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জাফলংকে ইকো-ট্যুরিজম করা হবে।
পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই কোটি পলিথিন ঢাকা শহরে প্রতিদিন ব্যবহার হয়। কার বাসায় চটের ব্যাগ নেই। পুরনো কাপড় দিয়েও ব্যাগ তৈরি করা যায়। সুপারশপ তো এখন আর বলে না যে, বিকল্প দেন। আমাদের অভ্যস্ততার বিষয় আছে। পলিথিন বন্ধ না হলে সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখানে সরকার সফল না ব্যর্থ সেটা দেখার সুযোগ নেই। তিস্তা ইস্যুতে মহাপরিকল্পনা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীন একটা প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু সেটা ফিজিবল না। আমরা দুই বছরের জন্য মেয়াদ বাড়িয়েছি। এটা বাস্তবায়ন করতে তিস্তাপাড়ের মানুষের কথা শুনতে হবে। আমরা চীনকে দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু এটা দীর্ঘ প্রসেস। তাই আমরা বলেছি যে, তাদের পরিকল্পনা যেন অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেয়।
প্রাথমিকের শিক্ষক পদে নিয়োগ বাতিল হওয়া প্রার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল সরকার বলে দাবি করেছেন গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে হাইকোর্ট ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ বাতিল করলেও তা সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আদালত থেকে একটি রায় হয়েছে। যেহেতু এটি এখন আদালতে বিচারাধীন বিষয়, তাই প্রশাসনিকভাবে আলাদা কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ নেই।
বিধান রঞ্জন রায় জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েই এ নিয়োগের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফলে মনে করছি আমরা আইনি কাঠামোতেই আমাদের কাজগুলো করেছি। সে হিসেবে তারা (আন্দোলনরতরা) যেটা চাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে আমাদের সহানুভূতি রয়েছে।’
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপর থেকে আন্দোলন করছেন ফল বাতিল হওয়া শিক্ষক প্রার্থীরা।
গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের শিক্ষাবিষয়ক কমিটিতে ডিসিরা রয়েছেন, সেই কমিটিতে যেন বিভিন্ন বিষয় তারা সিরিয়াসলি দেখেন সেজন্য বলা হয়েছে। নির্মাণকাজ যেন ঠিকমতো হয়, সে বিষয়ে বলেছি। অনেক কিন্ডারগার্টেন রয়েছে; নীতিমালা অনুযায়ী সেগুলো নিবন্ধিত হওয়া দরকার, কিন্তু অনেকগুলো নিবন্ধিত নয়। সেগুলো নিবন্ধনের ওপর আমরা জোর দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকের ৮৫ শতাংশ বই স্কুলে পৌঁছে গেছে। এ মাসের মধ্যে স্কুলে স্কুলে সব বই পৌঁছে যাবে।’
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্য সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের সতর্ক থাকতে বলেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, কেউ যেন মসজিদ, মাজার, মন্দির, প্যাগোডা অথবা চার্চে কোনো ধরনের অপবিত্রতা করতে না পারে সেজন্য তাদের অনুরোধ করেছি। অতীতেও তারা সাড়া দিয়েছেন। আগামী দিনেও যেন ধর্মীয় সম্প্রীতি অব্যাহত থাকে সেটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে বলেছি। খালিদ হোসেন বলেন, অপরাধী ধরা পড়লে তাদের সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করার কথা বলেছি। এ ছাড়া সরকারিভাবে হাজিদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তাদের উদ্যোগী হতে বলেছি।
তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ৩৫০ মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ করেছি। এ ছাড়া ২১৪টি মডেল মসজিদ আমরা নির্মাণ করব উপজেলাগুলোতে। এগুলোর সাইট সিলেকশন কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। আমরা তাদের ভালো সাইট দেখতে বলেছি। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রী যাতে উন্নত হয়, সেই বিষয়ে কঠোর হতে বলেছি।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন জেলায় অনেক দেবোত্তর সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে। এগুলো পাবলিক দখল করে নিয়েছে। মতিঝিলে একটা সম্পত্তি আমরা উদ্ধার করেছি। শত শত জায়গায় ওয়াকফ স্টেট বেহাত হয়ে গেছে। সেগুলো আমরা উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছি।
তিনি বলেন, এ ছাড়া আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় হাইকোর্টে একটি স্বতন্ত্র বেঞ্চ করার জন্য চিঠি দিয়েছি। এ বিষয়ে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের সঙ্গেও কথা বলেছি। ওয়াকফ মামলাগুলো সেখানে শুনানি হবে যাতে যারা বছরের পর বছর মামলা করে সম্পত্তিগুলো খেয়ে ফেলছে, তাদের হাত থেকে উদ্ধার করা যায়।
অতীতের মতো এবারও যথাযথভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেন, শিল্প-সাহিত্য চর্চা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এখন প্রচুর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। আর পহেলা বৈশাখ বাঙালির একটি বড় উৎসব। এটি প্রত্যেকবার যেভাবে পালিত হয়, এবারও সেভাবেই পালিত হবে।
তিনি বলেন, আমরা অস্বীকার করছি না যে, কোথাও কোথাও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। তবে অনেক জায়গায় সফলভাবে অনুষ্ঠানও হচ্ছে। যেখানে সমস্যা, সেখানে আমরা সমাধান করার চেষ্টা করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে ফারুকী বলেন, নাট্য উৎসব বন্ধের পেছনে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। তাদেরই (নাট্যকর্মীদের) আরেক দলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই সেটি বন্ধ করা হয়েছে। কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত নয়। আর এর সঙ্গে সরকারেরও কোনো সম্পৃক্ততা নেই।