অনতিবিলম্বে নির্বাচন দিন, কালক্ষেপণ করবেন না: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা এ দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। বিচার ব্যবস্থা, অর্থ ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় সকল বিভাগ ধ্বংস করে গেছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। নিজেরা নিজেরা ভোট করে তারা সরকার গঠন করেছে।

তিনি বলেন, লাকসামের হিরু-হুমায়ুনসহ সাড়ে সাত শ নেতৃবৃন্দকে গুম করা হয়েছে। তাদের সন্তানরা এখনও চোখের পানি ফেলছে। আ. লীগের আমলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে লাকসামের মানুষ। যারা অপকর্ম করে তারা এখানকার এমপি তাজুল ইসলামের মতো, শেখ হাসিনার মতো পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

রাষ্ট্র সংস্কারে ৩১ দফা বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা লাকসাম পৌরসভা ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে লাকসাম স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, দেশ গড়ার জন্য ঐক্যের বিকল্প নেই। আমাদের মাঝে কেউ বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করছি, করব। এ সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। আমরাও সংস্কার চাই। তবে এদেশের সাধারণ মানুষ সংস্কার বোঝে না। তারা বোঝে মোটা চাল, আর মোটা কাপড়।

ফখরুল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অনতিবিলম্বে নির্বাচন দিন। আর কালক্ষেপণ করবেন না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাব। দেশের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা জন্য একটি স্থিতিশীল সরকার জরুরি।

এদিকে জনসভায় প্রধান বক্তা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপি মেনে নেবে না। ২-৪ জন নাবালক উপদেষ্টার কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

তিনি বলেন, একাত্তরে শেখ মুজিব পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপন করেন। ঐ ক্রান্তিকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশের হাল ধরেন। শেখ মুজিবের পরিবারের কেউ এবং আওয়ামী লীগের কেউ মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকলে আমি হিজরত করে চলে যাব। যারা মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বাস করে না তারা এদেশে ভোট চাওয়ার অধিকার রাখে না।

লাকসাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালামের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৯ আসনের সাবেক এমপি কর্নেল অব. এম আনোয়ারুল আজিম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উৎবাতুল বারী আবু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কফিল উদ্দিন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান আমীর, মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ সুলতান খোকন, লাকসাম উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুর রহমান বাদল, মনোহরগঞ্জ না বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ ইলিয়াস পাটোয়ারী, লাকসাম পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল হাশেম মানু, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. নূর উল্লাহ রায়হান, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ মজির আহমদ, নবাব ফয়জুন্নেছার বংশধর আয়াজ আলী চৌধুরী, গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরুর ছেলে রাফসান ইসলাম, হুমায়ুন কবির পারভেজের ছেলে শাহরিয়ার কবির রাতুল।