আলেপের বিরুদ্ধে গুম ব্যক্তির স্ত্রীকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর 

এক ব্যক্তিকে গুম করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তার বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠা র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা ও বরখাস্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিনকে একদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। 

বৃহস্পতিবার প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। র‌্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার আলেপের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগে মামলা রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আলেপের বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষকে গুম করে ইলেকট্রিক শক দেওয়া, চোখ বেধে রাখা, উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানোসহ নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি (আলেপ) একজনকে গুম করে তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া স্ত্রীকে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী ওই নারী মানসিক ট্রমায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।’ 

শুনানিতে তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় সবচেয়ে বেশি গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে তাদের মধ্যে আলেপ একজন। গুম ও ধর্ষণের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাবাসাদ করা প্রয়োজন।’ শুনানি নিয়ে আদালত আলেপকে ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

অন্যদিকে গুমের মামলার আরেক আসামি সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা ও বরখাস্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকীর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রসিকিউশন পক্ষ সময় চাইলে আদালত আগামী ২৮ মে দিন ধার্য করেন। 

পরে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলেপ উদ্দিন র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মারাত্মক। গুম করে স্বামীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে স্ত্রী রোজার মাসে রোজা ভাঙিয়ে ধর্ষণ করেন। এর তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে এসেছে।’ 

তিনি বলেন, ‘এমন নিষ্ঠুর অভিযোগের তদন্ত করতে সময় লাগবে। প্রতিদিন ভুক্তভোগীরা আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসছেন।’