বৈষম্যের কারণ খুঁজতে হবে

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, সেটি হচ্ছে বৈষম্য। কিন্তু কী কারণে সমাজে বৈষম্যের উদ্ভব হয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে হলে রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে এ বিষয়টি তুলে আনতে হবে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢবি) আরসি মজুমদার মিলনায়তনে গতকাল এক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক সেলিম জাহান রচিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি : বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ এবং ‘বাংলাদেশ : কনটেম্পোরারি ডেভেলপমেন্ট ইস্যুজ’ শীর্ষক দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান, অধ্যাপক রেবায়েত ফেরদৌস, সাংবাদিক শওকত হোসেন মাসুম প্রমুখ।

রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন উল্লেখ করে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, এর আগেও একাধিকবার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেসব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯১ সালে পটপরিবর্তনের পর সংস্কারের জন্য তার নেতৃত্বে ২৯টি টাস্কফোর্স রিপোর্ট প্রণীত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই প্রস্তাবগুলো কাজে লাগানোর বিষয়ে কোনো সরকার উদ্যোগ নেইনি। সাম্প্রতিক সময়েও একটি টাস্কফোর্স রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। এটি কতটা কাজে লাগানো হয়, সেটি দেখার বিষয়।

মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা কেন সুযোগ পেয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছি, সে বিষয়টি বারবার আসছে। এ ক্ষেত্রে ঘাটতি কোথায়, তা অনুসন্ধান করা জরুরি। এজন্য নীতিপ্রণেতা, রাজনীতিবিদ, অ্যাকাডেমিশিয়ান ও বাস্তবায়নকারীদের (আমলাতন্ত্র) কাজে সমন্বয় সাধন করা আবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে নীতিপ্রণেতা ও রাজনীতিবিদরা অনেক কাজ করার বিষয়ে সম্মত হলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে অর্থাৎ আমলাতন্ত্রের পর্যায়ে গিয়ে আটকে যায়।

অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে উন্নয়নের একটি উপাখ্যান তৈরি করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে, বাংলাদেশ খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন বিবেচনা করতে হবে যে, তারা যে উপাখ্যান উপস্থাপন করেছিল সেটা কতটা সত্য। আমরা সে সময় যে গতিতে এগিয়েছি তার চেয়ে বেশি গতিতে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল কি না, বা অন্য দেশগুলো আমাদের চেয়ে বেশি বেশি গতিতে এগিয়েছে কি না, সেটি আলোচনা হওয়া দরকার।

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, বিগত সরকারের সময় সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ভেঙে গেছে। প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে কোনো সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে রওনক জানান বলেন, বর্তমানে সংস্কার নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এখন আমাদের ঠিক করতে হবে যে, মানুষ কোন সংস্কারগুলো আগে চায়। তারা কি সংবিধানের আমূল পরিবর্তন চায়, নাকি সুশাসনভিত্তিক সমাজব্যবস্থা আগে চায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, বিশে^র বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর সেগুলো শক্তিশালী করতে পুনরায় কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশে তার প্রয়োগ ঘটাতে হবে।