ন্যাচারাল বাইপাস চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভিনব আবিষ্কার। হৃদরোগ চিকিৎসায় অত্যাধুুনিক ও প্রায় শতভাগ সফল কার্যকর পদ্ধতি। সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে ন্যূনতম ৩৫টি সেশনে চিকিৎসা নিলে হৃৎপি-ের অব্যবহৃত সুপ্ত রক্তনালিগুলো সচল হয়ে ওঠে এবং হৃৎপি-ে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি করে। মেশিনটির নাম ইসিপি (ঊঈচ) মেশিন। এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিলে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই হৃদরোগজনিত বুকব্যথার উপশম হয়।
হৃৎপি-ের রক্তনালির ব্লকের বাইপাস হয়ে যায়। এটাই ‘ন্যাচারাল বাইপাস’। অর্থাৎ ব্লক কিংবা হার্ট অ্যাটাকজনিত হৃদরোগের জন্য এর কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হবে না। হৃদরোগ বলে হৃৎপি-ের অসুস্থতা বোঝায়। হৃদরোগকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
জন্মগত : হৃৎপি-ের দেয়ালে ছিদ্র, ভাল্বের গঠনে ত্রুটি ইত্যাদি।
অর্জিত : বাতজ¦রজনিত, যাকে রিউমেটিক হার্ট ডিজিজ (জঐউ) বলা হয়। ইহা হার্টের ভাল্বের ক্ষতি করে। ইহার হার ০.৩-৩%। অবশিষ্ট প্রায় ৯৭-৯৮ শতাংশ হৃদরোগই মূলত হার্টের নিজের রক্তনালির প্রতিবন্ধকতা বা ব্লকজনিত। সাধারণত হৃদরোগ বা হার্ট ডিজিজ বলতে রক্তনালির প্রতিবন্ধকতাজনিত হার্টের কষ্টকে বোঝায়, যাকে ইংরেজিতে হার্ট ব্লকেজ বা সিএডি (ঈঅউ) বা সিএইচডি (ঈঐউ) বলা হয়।
লক্ষণভেদে ইহাকে ২ ভাগ করা যায় :
এঞ্জিনা : স্থিতিশীল ও
অস্থিতিশীল
হার্ট অ্যাটাক : হার্টের সিএডি নেতিবাচক জীবন দৃষ্টিভুল খাদ্যাভ্যাসধূমপান বা জর্দাউচ্চ রক্তচাপডায়াবেটিসপর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রমের অভাবঅতিরিক্ত ওজনবংশ ক্রমমানসিক বৈকল্য।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
রক্তের পরীক্ষা : সিবিসি, লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, আরবিএস, টিএসএইচ, সিরাম ইলেকট্রোলাইট।
হার্টের পরীক্ষা : ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি, ইটিটি, সিটিএনজিওগ্রাফি।
ফুসফুসের পরীক্ষা : এক্স-রে
চিকিৎসা
রক্ত পাতলা করার ওষুধ যেমন ক্লোপিড, আস্পিরিন ইত্যাদি,
বুকের ব্যথার ওষুধ যেমন নিডোকার্ড, মেটাকার্ড ইত্যাদি,
চর্বি কমানোর ওষুধ যেমন স্ট্যাটিন গ্রুপ,
রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধ,
ব্লক কমানোর ওষুধ এবং ব্লক বাইপাস করানোর জন্য ইসিপি বা ন্যাচারাল বাইপাস। বর্তমানে কাটাছেঁড়া ছাড়াই আমরা আমাদের ক্লিনিকে হার্টের ব্লকের বাইপাস করে থাকি, ডিটক্স করিয়ে হার্টের ব্লকের সাইজ করে থাকি।