জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে বিশেষ ব্যবস্থায় মধ্যবর্তী দলবদল চলাবস্থায় হলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দশম রাউন্ডের খেলা। যার মধ্য দিয়ে শুরু হলো দ্বিতীয় পর্ব। এই রাউন্ডের পাঁচ ম্যাচের দিকে দৃষ্টি ছিল জাতীয় দলের কোচ স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার। শনিবারও মাঠে উপস্থিত হয়ে দেখেছেন খেলা। আর এই রাউন্ডে বড় দলগুলোই পেয়েছেন অনুমিত জয়। শুক্রবার ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে হারিয়েছিল শীর্ষে থাকা মোহামেডান। আর শনিবার নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড ও বসুন্ধরা কিংস। কুমিল্লায় পিছিয়ে পড়েও আবাহনী ফকিরেপুল ইয়ংমেন্সকে হারিয়েছে ৬-১ ব্যবধানে। আর ময়মনসিংহে স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনীকে কিংস হারিয়েছে ২-০ গোলে।
ভাষা শহীদদের স্মরণে টানা পাঁচবারের শিরোপা জয়ী বসুন্ধরা কিংস কাল বিশেষ জার্সি পড়ে নেমেছিল। কালো জার্সিতে নাম লেখাছিল বাংলায়। এই কাজটা নিয়মিতই করে দলটি। তবে প্রথম পর্বের মতো চট্টগ্রাম আবাহনীর পোস্টে গোলৎসব করতে পারেনি তারা।
দশম রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকছে ২৭ পয়েন্ট পাওয়া মোহামেডান। আবাহনী দুইয়ে আছে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে। তার তিনে থাকা কিংসের সংগ্রহ ২০ পয়েন্ট। এই রাউন্ড শেষে লিগে ফের ছেদ পড়বে। মূলত ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ম্যাচ বলেই লিগ থাকবে বন্ধ। এপ্রিলে একাদশ রাউন্ড দিয়ে শুরু হবে লিগ।
ময়মনসিংহের রফিকউদ্দিন ভুঁইয়া স্টেডিয়ামে কিংসের শুরুটা হয়েছিল সহজাত আক্রমনাত্মক কৌশলে। ২০ মিনিটে বক্সের উপরে সোহেল রানা জুনিয়রকে বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। এরপর ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সে ঢুকে ফিরতি পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী কিপারকে বোকা বানান বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড। আট মিনিট পর পেনাল্টি পেয়ে যায় কিংস। বক্সের ভেতরে রাকিব হোসেনের শট ডিফেন্ডার রাকিব খান ইভানের হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। মিগেল ফিগেইরা সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
বিরতির পরও কিংস চেয়েছে ব্যবধান বাড়াতে। ৬৫ মিনিটে রাব্বী হোসেন রাহুল গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা পোস্টে শট নিয়েছিলেন। তবে দ্রুত ছুটে গিয়ে কোনোমতে পা দিয়ে সেই বল আটকে দেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক ফজলে রাব্বী।৭৫ মিনিটে বক্সে মিগেলকে আটকাতে গোলকিপার আরমান পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ঝাপিয়ে পড়েন। দামাশেনো তার সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে পরে সহকারী রেফারির সঙ্গে কথা বলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করে গোল কিকের নির্দেশ দেন রেফারি নাসির উদ্দিন। তাতে ব্যবধান বাড়াতে না পারলেও জয়ের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে কিংস।
কুমিল্লায় ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত জয় পেয়েছে আবাহনী। প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারানো প্রতিপক্ষকে এবার মারুফুল হকের শীষ্যরা হারিয়ে বড় ব্যবধানে। যদিও শান্ত টুডোর পাস ধরে সায়েম হাসান ১৪ মিনিটে এগিয়ে নিয়েছিলেন ফকিরেরপুলকে। তবে পিছিয়ে পড়া আবাহনী ঘুরে দাঁড়ায় ৩৯ মিনিটে। গোল করেন অধিনায়ক মোহাম্মদ হৃদয়। দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে যায় আবাহনী। ৫৪ মিনিটে হৃদয়ের বাড়ানো পাস জালে জড়ান এনামুল ইসলাম গাজী। সাত মিনিট পর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সহায়তায় ব্যবধান আরও বাড়ান এই ফরোয়ার্ড। এরপর ৭৮ মিনিটে ইব্রাহিম, ৮১ মিনিটে জাফর ইকবাল এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলী মিরাজুল ইসলাম গোল করে আবাহনীকে পাইয়ে দেন ৬-১ গোলের বড় জয়।