নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) লিখিত প্রস্তাবনায় দাবি না জানালেও সংবাদপত্র শিল্পে বিদ্যমান অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও আগাম কর বা অগ্রিম ভ্যাট (এটি) কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘কর জিডিপি অনুপাত ও কর হার বাড়াতে সচেতনতামূলক প্রচার করছে গণমাধ্যমগুলো। গণমাধ্যম আরও ভূমিকা রাখবে। আপনারা না বললেও আমরা এআইটি ও এটি কমানোর আশ্বাস দিচ্ছি।’
গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সংবাদপত্র শিল্পে বর্তমানে এআইটি ও এটি বা অগ্রিম ভ্যাট ৫ শতাংশ হারে বিদ্যমান।
নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ লিখিত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রস্তাবে তিনি নিউজপ্রিন্টের আমদানি শুল্ক দুই শতাংশ করা (বর্তমানে প্রযোজ্য ৫ শতাংশ), ভ্যাট ১৫ শতাংশের স্থলে ৫ শতাংশ এবং সংবাদপত্র শিল্পকে সেবামূলক শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে করপোরেট কর (বর্তমানে ২৭.৫ শতাংশ) সর্বনি¤œ নির্ধারণ অথবা অবলোপন করার দাবি জানান। তিনি বলেন, আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ হলেও ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর, পরিবহন বীমা ইত্যাদিসহ ল্যান্ডেড ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশে দাঁড়ায়। নোয়াবের দাবি, বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল মাধ্যমের বহিঃপ্রকাশ ও অন্য মাধ্যমের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি সংবাদপত্র শিল্পকে বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। এ বাস্তবতায় সংবাদপত্র শিল্প রক্ষায় শুল্ক ও করনীতিতে সংস্কার প্রয়োজন।
এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অবস্থায় বিশেষত ডলারের ক্রমবর্ধমান বিনিময় হার এ শিল্পকে নতজানু করে ফেলেছে। বিগত কয়েক বছরে সংবাদপত্র শিল্প বিকাশে সরকার আমাদের কোনো প্রস্তাবনা আমলে নেয়নি। এ বছরের বাজেটে আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেওয়া হোক। সংবাদপত্র সেবা শিল্প হিসেবে সরকার কর্তৃক ঘোষিত। সাংবাদিক বাদেও মুদ্রণ, বিপণন, বিতরণ ও বিজ্ঞাপন ইত্যাদিসহ অগণিত মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এর অব্যাহত অগ্রগতি ও পরিচালনার জন্য শুল্ক ও কর নীতি প্রয়োগের বিপুল সংস্কার তথা সহায়ক ভূমিকা প্রয়োজন।