জার্মানির নির্বাচনে ভোটগণনা শেষে প্রাথমিক ফলাফলে প্রকাশিত হয়েছে। ২১তম জাতীয় নির্বাচনে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছে ফ্রিডরিখ মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) এবং তাদের জোটভুক্ত দল ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন (সিএসইউ)। তবে জিতলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় জোট সরকার গঠন করতে হবে সিডিইউ-সিএসইউ জোটকে।
এবারের নির্বাচনে জার্মান ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণ ছিল। ৮৩ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। ১৯৯০ সালে জার্মানি একীভূত হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ ভোটারের উপস্থিতি দেখা গেছে এ নির্বাচনে। ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল অভিবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকট। এ নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে কট্টর ডানপন্থি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। দলটি ২০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে রেকর্ড দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে, যা দলটির ইতিহাসে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ ভোট। তবে ভরাডুবি হয়েছে চ্যান্সেলর শলৎজের সোশ্যাল ডেমোক্রেট দলের (এসপিডি)। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ফল দেখল দলটি। মাত্র ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে এসপিডি। প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর নিজের পরাজয় স্বীকার করেছেন শলৎজ।
সিডিইউ নেতা ফ্রিডরিখ মের্ৎস নিজের কেন্দ্রে জয়লাভ করেছেন। তিনি পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। তার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন এএফডি প্রার্থী ডার্ক ওয়াইজ। তিনি পেয়েছেন ২১ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। তবে দল বাজে ফল করলেও নিজ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ। তিনি ২১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তিনি সিডিইউ প্রার্থীকে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। এই কেন্দ্র থেকেই দাঁড়িয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গ্রিন পার্টির নেত্রী আনালেনা বেয়ারবক। তিনিও পরাজিত হয়েছেন। গ্রিন পার্টির নেতা তথা ওয়াইজ চ্যান্সেলর রবার্ট হ্যাবেক পরাজিত হয়েছেন। তাকে হারিয়েছেন সিডিইউ প্রার্থী পেট্রা নিকোলাইজেন।
অবশ্য এবারও কেউ জার্মানিতে একক সরকার গঠন করতে পারছে। কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় জোট সরকার গঠন করতে হবে বিজয়ী দলগুলোকে। সেখানেও জটিলতার কমতি নেই। কেননা সিডিইউ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, তারা এএফডির সঙ্গে সরকার গড়বে না। ফলে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েও অতি দক্ষিণপন্থিরা সরকারে থাকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ইতিমধ্যে দুটি জোট তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিডিইউ এসপিডিকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে পারে অথবা তারা গ্রিন পার্টি বা সবুজ দলকেও জোটসঙ্গী করতে পারে। তবে সিডিইউ নেতা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, জোট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হবে। নতুন চ্যান্সেলর হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও।
এদিকে এএফডি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি দল যে ফায়ার ওয়াল তৈরি করেছিল, ভোটাররা তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। পার্লামেন্টে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে তারা তাদের ভূমিকা পালন করবে।