ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারীর শ্লীলতাহানীর মামলায় আরও দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার রাতে এক জনকে নেত্রকোনা ও অপর জনকে আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডাকাতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ঘটনায় ব্যবহৃত ২ টি দেশীয় অস্ত্র, নগদ ৪২১০ টাকা, দু’টি রুপার আংটি, বিভিন্ন মডেলের দশটি মোবাইল ফোন, মহিলা যাত্রীদের থেকে লুন্ঠিত ২ জোড়া মোটা ও ৩ জোড়া চিকন এ্যামিটিশনের চুড়ি, তিনটি ব্যাগ, যাত্রীদের এনআইডি কার্ড ও এটিএম কার্ড।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হলেন ঢাকা জেলার আশুলিয়ার পশ্চিম পলাশবাড়ি এলাকার মো. আলমগীর ও তার সহোদর মো. রাজিব হোসেন। তারা আঃন্তজেলার ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী বাসে মির্জাপুর এলাকায় তিন ঘণ্টা ধরে তান্ডব চালায় ডাকাতদল। এ ছাড়া শ্লীলতাহানি করা হয় দুই নারী যাত্রীকে। এরপর কয়েকজন যাত্রী মির্জাপুর থানায় গিয়ে ডাকাতির ঘটনা তুলে ধরেন থানার ডিউটি অফিসার আমলে না নিলে থানা ত্যাগ করে যাত্রীরা। পরে যাত্রীবাহী বাসটি নাটোরে পৌঁছালে ওই জেলার, বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের সহায়তা চায় যাত্রীরা। বাস যাত্রীদের হাতে আটক বাস চালক বাবলু, সুপারভাইজার মাহবুব ও হেলপার সুমনকে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থল টাঙ্গাইল জেলায় হওয়ায় সেখানে মামলা করার পরমার্শ দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম। এরপরে কেউ মামলা না করায় পুলিশ ৫৪ ধারায় তাদের আদালতে পাঠালে জামিনে মুক্ত হন সবাই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সময় মত অবহিত না করায় ওসি সিরাজুল ইসলামকে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ক্লোজড করে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার দায়ে মির্জাপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আতিকুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িত তিন ডাকাতকে সাভার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে আদালতে দুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। অপর একজনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসা বাদ চলছে ।