রঙিন ফুলকপি চাষে প্রথমবারই সফল কৃষক নূর মোহাম্মদ

বাজারে সাদা ফুলকপির চাইতে ভালো চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে দিন দিন বাড়ছে রঙিন ফুলকপির চাষাবাদ। প্রথমবারের মতো তিন বিঘা জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফল হয়েছেন নূর মোহাম্মদ নামের এক কৃষক। সব খরচ বাদ দিয়ে রঙিন ফুলকপি থেকে দুই লাখ টাকা লাভের আশা তার। কম খরচে অধিক লাভ ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন অন্য কৃষকরা। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ রঙিন ফুলকপির চাষাবাদ বাড়াতে সবধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দাবি কৃষি বিভাগের।

হাকিমপুর উপজেলার খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের চকভবানী গ্রামের নূর মোহাম্মদ পাপ্পু পার্শ্ববর্তী বিরামপুর সরকারি কলেজে ডিগ্রিতে অধ্যায়নরত। পড়ালেখার পাশাপাশি করেন ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবারই প্রথমবারের মতো তিন বিঘা জমিতে সৃনেলা ও সাকুরা জাতের রঙিন প্রজাতির ফুলকপি চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই তার ক্ষেতে শোভা পাচ্ছে হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি। বর্তমান যেখানে বাজারে সাদা ফুলকপির দাম ২ থেকে ৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে সেখানে তার রঙিন এই ফুলকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তার ক্ষেতে ১২ হাজার রঙিন ফুলকপি রয়েছে যা আড়াইলাখ টাকা বিক্রির আশা। খরচ ৫০ হাজার টাকা বাদ দিয়ে তিন বিঘা জমিতে দুই লাখ টাকা লাভের আশা তার।

এদিকে নতুন জাতের এই দৃষ্টিনন্দন ফুলকপি দেখতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় তারমত নতুন জাতের এই রঙিন ফুলকপি আবাদ করে নিজেদের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন অন্য কৃষকরা।

রঙিন ফুলকপি চাষি কৃষক নূর মোহাম্মদ পাপ্পু বলেন, স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে রঙিন এই ফুলকপির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন। হলুদ ও বেগুনী রঙের রঙিন এই ফুলকপির বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ও সেই সঙ্গে সাদা ফুলকপির চাইতে রঙিন ফুলকপির দাম ভালো রয়েছে। এটি চাষ করে লাভবান হব বলে তারা আমাকে উদ্ভুদ্ধ করেছিলেন। সেই থেকে আমি এবারে প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপি চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠি। 

অপর রঙিন ফুলকপি চাষি আব্দুর রহমান বলেন, সাদা ফুলকপির চাইতে রঙিন ফুলকপি চাষাবাদ বেশ লাভজনক যার কারণেই এবারে সীমিত পরিসরে আবাদ করেছি। আবাদ করে যা দেখছি তাতে করে আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়াতে লাগবে। একে তো খরচ কম, তার ওপর রঙিন হওয়ার কারণে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যেখানে সাদা ফুলকপি বাজারে নিয়ে গিয়ে বসে থাকতে হয় বিক্রির জন্য কিন্তু রঙিন ফুলকপি বাজারে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে রঙিন ফুলকপি চাষাবাদ বেশ লাভজনক। আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়াব।

আগ্রহী কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, আমাদের এই এলাকায় আগে কখনও রঙিন এই ফুলকপির আবাদ করতে দেখিনি। প্রথম দেখলাম নতুন ধরনের এই রঙিন ফুলকপির চাষাবাদ হতে। হলুদ ও বেগুনী রঙের ফুলকপির ভালো চাহিদা দেখা যাচ্ছে, সেই সঙ্গে দাম বেশ ভালো।

অপর কৃষক সিদ্দিক হোসেন বলেন, বাজারে সাদা ফুলকপির চাইতে রঙিন ফুলকপির বচাহিদা বেশি। সাদা ফুলকপির চাইতে নতুন এই রঙিন ফুলকপি দেখতে সুন্দর হওয়ায় মানুষজন আগ্রহ করে নিচ্ছে রঙিন ফুলকপি। এমন কালারফুল ফুলকপি দেখতেই সুন্দর লাগছে। যার কারণে বাজারে যেই দেখছে সেই নিতে চাইছেন।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, গতবছর এই উপজেলায় প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপি চাষাবাদ করা হয়েছিল। সেসময় দেড়বিঘা জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষাবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর রঙিন ফুলকপির আবাদ বেড়েছে। এবার ৪ বিঘা জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষাবাদ হয়েছে। সাদা ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপির পুষ্টিগুণ থেকে শুরু করে সেটার ঔষধী মূল্য যেমন রয়েছে, তেমনি বাজার মূল্য ভালো।

দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলায় শস্যের নীবিড়তা বাড়ানো এবং বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের ফসল ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফল যাতে সারা বছরব্যাপী সহজলভ্য করা যায় এজন্য এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে হাকিমপুর উপজেলায় উচ্চমূল্যের রঙিন ফুলকপির প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। নরমাল যে সাদা ফুলকপি রয়েছে, তার চেয়ে রঙিন ফুলকপির পুষ্টিমান বেশী। এটাতে বিটা ক্যারোটিন ও এন্ট্রি অক্সিজেন থাকার কারণে এটা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ক্যান্সার প্রতিরোধী।