পবিত্র কোরআনের বিশেষ ফজিলতপূর্ণ সুরা ইখলাস। এর আয়াত সংখ্যা ৪টি। পুরো কোরআনের তিন ভাগের এক ভাগ বলা হয় এই সুরাকে। ইখলাস অর্থ গভীর অনুরাগ, একনিষ্ঠতা, খাঁটি আনুগত্য ইত্যাদি। শিরক থেকে মুক্ত হয়ে এক আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলা হয়। একদা রাসুল (সা.) একজন সাহাবির নেতৃত্বে একদল সৈনিককে যুদ্ধে পাঠান। তিনি যুদ্ধের দীর্ঘ সময়ে শুধু সুরা ইখলাস দ্বারা নামাজ পড়িয়েছেন। সৈন্যরা যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে রাসুল (সা.)-কে তা অবহিত করেন। রাসুল (সা.) তাদের বলেন, তোমরা তাকে জিজ্ঞেস করো কেন সে এরূপ করেছে? সেনাপতি তাদের বললেন, এ সুরায় আল্লাহর গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে বিধায় আমি এ সুরাকে ভালোবাসি। উত্তর শুনে রাসুল (সা.) সাহাবিদের বলেন, তোমরা তাকে গিয়ে বলো, আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন। (সহিহ বুখারি) সুরা ইখলাসকে যিনি ভালোবাসবেন, তিনি জান্নাতে যাবেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাত হয়েছে, জনৈক সাহাবি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি সুরা ইখলাসকে ভালোবাসি। রাসুল (সা.) বলেন, এ ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। (তিরমিজি)
গুনাহ মাফ : রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পড়বে, তার ৫০ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, তবে ঋণ থাকলে তা মাফ হবে না। (তিরমিজি)
দারিদ্র্য দূর : সাহল ইবনে সাদ সায়েদি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে দারিদ্র্যের অভিযোগ করল, রাসুল (সা.) তাকে বললেন, যখন তুমি ঘরে যাও তখন সালাম দেবে এবং একবার সুরা ইখলাস পড়বে। এ আমল করার ফলে কিছুদিনের মধ্যে তার দারিদ্র্য দূর হয়ে যায়। (কুরতুবি ২০/১৮৫)
বিপদাপদে উপকারী : রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-বিকাল সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করে, সেগুলো তাকে বিপদাপদ থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়। (আবু দাউদ)