একজন রোগীর ২০ বছর আগে পায়ুপথের পাশে একটি ফোড়া হয়। সেটি একসময় ফেটে পুঁজ পড়তে থাকে। তারপর তিনি চিকিৎসকের কাছে যান। তিনি বলেন, তার ফিস্টুলা হয়েছে। অপারেশন করেন। কিন্তু অপারেশনের কিছুদিন পরেই তার আবার ফিস্টুলা দেখা দেয়। এভাবে একাধিক চিকিৎসার পরও ভালো ফল পাননি তিনি। বরং ফিস্টুলার সংখ্যা বেড়েই যায়। এই ফিস্টুলার কষ্ট নিয়েই ছিলেন তিনি। বর্তমানে লেজারের মাধ্যমে কাটাছেঁড়া ছাড়া অপারেশন করা হয়ে থাকে। অতঃপর লেজারের সাহায্যে ফিস্টুলার অপারেশন করে অনেকটাই ভালো আছেন তিনি। এ অপারেশনে রোগী একদিন পরেই বাড়ি ফিরে যান।
ফিস্টুলা কী
শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও ফিস্টুলা হতে পার। পায়ুপথের ফিস্টুলা বা ফিস্টুলা ইন এনা পায়ুপথের একটি রোগ, যাকে প্রচলিত ভাষায় নালিও বলা হয়। এটি একটি নালির মতো; যার একটি মুখ পায়ুপথের বাইরে থাকে, আর একটি মুখ পায়ুপথের ভেতরে থাকে। এই নালি দিয়ে পুঁজ-রক্ত ইত্যাদি বের হতে থাকে। তারপর ফুলে যাওয়া, ব্যথা করা, টয়লেট সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে। বিষয়টি কখনো কখনো বড় উপদ্রব হয়, যখন ফিস্টুলা দিয়ে পুঁজ-মল বের হয়ে কাপড়ে দাগ পড়ে।
চিকিৎসা
আমাদের দেশে প্রচলিত সমাধান হচ্ছে ফিস্টুলোট মি ও ফিস্টুলেকটমি। যাতে পুরো নালি কাটা হয়। বড় একটি ক্ষত থাকে। মেট্র ড্রেসিং করে ভালো করতে হয়। ক্ষত শুকাতে ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগে। হাই লেভেল ফিস্টুলা হলে ৩ থেকে ৪ ধাপে অপারেশন করতে হয়। ফলে রোগীর অনেক কষ্ট হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন অপারেশন আছে।
বর্তমানে যে পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি অপারেশন হচ্ছে সেটি হলো লেজার পদ্ধতি। বৈজ্ঞানিক নাম খধংবৎ ঋরংঃড়ষধ ঈষড়ংঁবৎ (ঋরষধপ)। এই পদ্ধতিতে একাধিক ফিস্টুলার হাই লেভেল ফিস্টুলা, জটিল ফিস্টুলা কিংবা আবার হওয়া ফিস্টুলার একবারই চিকিৎসা হচ্ছে। এমনকি রোগী একদিনেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে পারেন।