ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে একই সময়ে ও স্থানে বিএনপির দুই গ্রুপের সভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে সভাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় তিনটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। এতে উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আগামীকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আড়াইসিধা কাদির ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুই গ্রুপ সভা আহ্বান করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে ৩১ দফা বাস্তবায়নে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে উপজেলার আড়াইসিধা কাদির ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি সভার অনুমতি চেয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রাসেল বিপ্লব।
আবেদনের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আশুগঞ্জ থানার ওসি ও আড়াইসিধা কাদির ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দেয়া হয়। এই সভায় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রধান অতিথি থাকার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে একই স্থানে একই সময়ে ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী সভার অনুমতি চেয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে আরেকটি আবেদন করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ গ্রুপের নেতা ও আড়াইসিধা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. বাদল মিয়া। তার আবেদনের অনুলিপিও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আড়াইসিধা কাদির ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দেওয়া হয়।
এদিকে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সভার জন্য গত তিনদিন ধরে মাঠে প্যান্ডেল ও মঞ্চ করার কাজ শুরু করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা। বুধবার রাতে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা এতে বাধা প্রদান করে। এতে করে উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার সকালে মাঠের নির্মানাধীন মঞ্চের পেছন থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। এ নিয়ে পুরো উপজেলায় বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আশুগঞ্জ থানার এসআই মো. মোস্তাকিম পাটোয়ারি বলেন, তিনটি ককটেল পড়ে থাকার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি।
এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান সিরাজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামল চন্দ্র বসাক বলেন, এখন পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা) প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিএনপির কোনো গ্রুপকেই সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি সভাস্থল থেকে তিনটি অবিষ্ফোরিত ককটেল উদ্ধার হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে ককটেলগুলো থানায় নিয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য যা যা করার তাই করা হবে।