মেরুদ-ের দুটি কশেরুকার মাঝে ফাঁকা থাকে, যেখানে এক ধরনের ডিস্ক থাকে, যাকে ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক বলে। এ ডিস্ক যখন তার জায়গা থেকে সরে যায় তখন তাকে ডিস্ক প্রলেপস বলে। অনেক কারণে ডিস্ক প্রলেপস হতে পারে। যেমন আমাদের মেরুদ-ের সঙ্গে স্পাইনাল লিগামেন্ট ও মাংসপেশি থাকে এগুলো দুর্বল হয়ে গেলে অসচেতনভাবে সামনের দিকে ঝুঁকে ভারী কিছু ওঠাতে গেলে আঘাত পেলে বা উঁচু স্থান থেকে পড়ে গেলে দীর্ঘক্ষণ নিচে বসে কাজ করলেও। এমনকি সামনের দিকে ঝুঁকে জুতার ফিতা বাঁধতে গেলে অথবা বেসিনে মুখ ধুতে গেলেও ডিস্ক প্রলেপস হতে পারে।
কোথায় কোথায় হয়?
সাধারণ ডিস্ক প্রলেপস আমাদের ঘাড় বা সারভাইক্যাল স্পাইন ওকোমর বা লাম্বার স্পাইনে বেশি হয়। সারভাইক্যাল স্পাইনেরসি ও সিলেভেলে এবং লাম্বার স্পাইনে এল ও এল৫-এস, লেভেলে বেশি হয়। পুরুষের তুলনায় নারীরা এ রোগে বেশি ভোগেন।
লক্ষণ : ঘাড় বা সারভাইক্যাল স্মাইন : ঘাড়ে ব্যথা ব্যথা ঘাড় থেকে হাতের দিকে ছড়ায় ও হাতে তীব্র ব্যথা হয় হাত ঝুলিয়ে রাখলে ও বিছানায় শুলে বেশি ব্যথা করে হাত ঝিনঝিন করে হাতের শক্তি কমে যায় বা হাত দুর্বল হয়ে আসে, অনেক ক্ষেত্রে হাতের মাংসপেশি শুকিয়ে আসে ইত্যাদি।
কোমর বা লাম্বার স্পাইনক
কোমরে ব্যথা ব্যথা কোমর থেকে পায়ের দিকে ছড়ায় পা ঝিনঝিন খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কিংবা হাঁটলে আর হাঁটার ক্ষমতা থাকে না, কিন্তু কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে আবার কিছুক্ষণ হাঁটতে পারে ও পা ভারী মনে হয় পায়ে জ¦ালাপোড়া অনুভব করে, পায়ের শক্তি কমে যায় ও অনেক ক্ষেত্রে পায়ে মাংসপেশি শুকিয়ে যায় অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রস্রাব ও পায়খানায় কন্ট্রোল থাকে না।
চিকিৎসা : ওষুধের পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকা অর্থাৎ হাঁটাচলা বা মুভমেন্ট করা যাবে না। এমন অবস্থায় সঠিক ফিজিওথেরাপি দিতে হবে। এক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী দুই থেকে চার সপ্তাহ ফিজিওথেরাপি দিতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি থেকে দিনে দু-তিনবার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিলে ও চিকিৎসক নির্দেশিত থেরাপিউটিক ব্যায়াম করলে রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে। এ ছাড়া সুস্থ হওয়ার পর কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন সামনে ঝুঁকে ভারী কাজ করবেন না শোয়ার জন্য একটা মধ্যম সাইজের বালিশ ব্যবহার করবেন ভারী ওজন তোলা নিষেধ, শক্ত বিছানায় শোবেন ও ভ্রমণ এবং হাঁটাচলার সময় সারভাইক্যাল কলার অথবা লাম্বার করসেট ব্যবহার করবেন চিকিৎসকের নির্দেশিত ব্যায়াম করবেন।