শারজার বিনিয়োগ চায় ঢাকা

শারজার বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য রপ্তানি ও বাজার সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য শারজাহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং শারজাহ চেম্বারের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সুলতান আল ওয়াইস নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উক্ত সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

বর্তমানে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করছেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে শারজার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ যেমন সম্প্রসারিত হবে, একই সঙ্গে বাংলাদেশে অন্যান্য দেশ বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য শারজার উদ্যোক্তাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। বলেন, পরিবেশবান্ধব পাট পণ্যের বহুমুখীকরণে শারজার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ইউএই ভিত্তিক একটি ব্যাংক বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তবে শারজাহ ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের কার্যক্রম বাংলাদেশে আরও সম্প্রসারিত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি জানান, বাংলাদেশের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স, পাদুকা ও ফুড প্রসেসিং প্রভৃতি খাতে শারজার উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারে। বাংলাদেশের লজিস্টিক খাতের উন্নয়নে শারজার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ের আহ্বান জানান তিনি।

দক্ষিণ এশিয়া সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজারে ইউএই’র প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিকল্পে বাংলাদেশ অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে তাসকীন আহমেদ মতপ্রকাশ করেন।

শারজাহ চেম্বারের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সুলতান আল ওয়াইস বলেন, বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের উৎপাদিত তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং এই রপ্তানির হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক। বিশেষ করে পূর্ব এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ইউএই অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি জানান, প্রায় ১ মিলিয়নের অধিক বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় ইউএইতে কর্মরত রয়েছে, তবে বাংলাদেশিদের অধিকহারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর আরও বেশি হারে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে শারজাহ চেম্বারের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিটুবি ম্যাচ-মেকিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যোগদান করেন।

ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ ডিসিসিআইর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।