ভাঙ্গা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার 

হবিগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের নিপীড়ন করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরিদপুর জেলা পুলিশের একটি সূত্র বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

বর্তমানে তাকে ঢাকার ডিবি পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের মেট্রোপলিটন থানা থেকে বদলি হয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন শফিকুল ইসলাম। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ সদর থানায় হবিগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম আওয়াল বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ২৬। এ মামলায় আসামি হিসাবে রয়েছে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম মুরাদ আলী, হবিগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান, পরিদর্শক বদিউজ্জামান, হবিগঞ্জ সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব, গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলামসহ ৭৫ জন। মামলার আসামিদের মধ্যে ১৮ জনই পুলিশ সদস্য। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে পদযাত্রা কর্মসূচির আয়োজন করে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিএনপির ওই নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং হামলা চালান। পাশাপাশি তারা গুলিবর্ষণ করতে থাকলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছের বাসায় আক্রমণ করে গুলি ছুড়তে থাকেন। তারা বাসার একটি কক্ষের জানালা ভেঙে সেখানে অবস্থানরত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম আওয়ালকে গুলি করেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।

 এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল জানান, ভাঙ্গার ওসি শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মামলা ইস্যু করা হয়েছিল। সেই মামলায় ওয়ারেন্ট হলে ফরিদপুর থেকে তাকে ঢাকার ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলা নম্বরটি এখন পর্যন্ত পাইনি।