ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতির বরপুত্র মাহবুব ধরাছোঁয়ার বাইরে

আওয়ামী শাসনামলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) হওয়া দুর্নীতি ও নিয়োগবাণিজ্যে আলোচিত নাম ড. মাহবুবর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। বিভিন্ন সময়ে অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগবাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিকবার তার এই নিয়োগবাণিজ্যের কলরেকর্ডও ফাঁস হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ ছাড়া তার এসব অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদনও করা হয়। তবে এত সব অভিযোগ থাকলেও যথাযথ শাস্তির আওতায় আনা যায়নি তাকে।

এদিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী সরকার পতনের ছয় মাস পেরোলেও তার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বর্তমান প্রশাসন। এ নিয়ে সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

ক্যাম্পাস সূত্রে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর থাকাকালীন ড. মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগবাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এলে তৎকালীন প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরে এসব অভিযোগের বিচার দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ। এর পরপরই তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ড. মাহবুবের নিয়োগবাণিজ্য সংক্রান্ত একটি অডিও প্রকাশ হয়। ওই অডিওতে ‘মূল হোতা’ হিসেবে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবের নাম উঠে আসে। এ ছাড়া আবদুল হালিম নামের এক নিয়োগ প্রার্থীকে ভাইভার পর ডেকে ব্রেনওয়াশ করতে বলেন ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনকে। এই অডিওতে ড. মাহবুবকে বলতে শোনা যায়, ‘ও (হালিম) চালাকি করতেছে, এখন যদি ওর ব্রেনওয়াশ না করে দেই, তাহলে বিরাট সর্বনাশ হয়ে যাবে।’ তবে ওই সময়ও মাফ পেয়ে যান তিনি। এদিকে ২০২০ সালে শিক্ষক নিয়োগবাণিজ্যের ঘটনা তদন্তে ড. মাহবুবসহ তিন শিক্ষক ও এক নিয়োগ প্রত্যাশীকে কার্যালয়ে তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে এরপর সেই বিষয়ের কোনো সুরাহা হয়নি। তৎকালীন প্রশাসনের আস্থাভাজন হওয়ায় পার পেয়ে গেছেন বলে দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে অভিযুক্ত শিক্ষক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ ছিল এটাই আমি জানি না। আমার কথা শোনার দরকার নেই, দুদকে খোঁজ নেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘ইউজিসিকে বলেছি সব দুর্নীতির বিষয়ে হাই পাওয়ার কমিটি করার জন্য। তারা আবেদন করতে বলেছিল। আমি ইতিমধ্যে ইউজিসি বরাবর আবেদনও দিয়েছি।’