হিলি

রোজা শুরুর আগেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

রাত পোহালেই পবিত্র রমজান মাস শুরু। এর আগের দিনেই দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। হঠাৎ করেই পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দাম বৃদ্ধির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রেতারা। তবে খুচড়া বিক্রেতাদের দাবি, মোকামে দাম বাড়ার কারণেই বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে।

শনিবার সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের সবধরনের সবজির ভালো সরবরাহ লক্ষ্য করা গেছে। তারপরও এক থেকে দুদিনের ব্যবধানে কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। যে বেগুন একদিন আগেও ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল সেই বেগুন এখন বেড়ে ৪০ টাকা, খিরা ২০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪০ টাকা কেজি, দেশি পেঁয়াজ আগে ২৮ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কাঁচামরিচ ৩০ টাকা বিক্রি হলেও এখন তা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লেবুর দাম; প্রতি হালি লেবু ৩০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে বেড়ে ৬০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে, আলু ১০ থেকে ১২ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা, শিম ১০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে।

হিলি বাজারে সবজি কিনতে আসা নাজমা খাতুন বলেন, যেহেতু আগামীকাল থেকে রমজান শুরু হচ্ছে, সেই কারণে কিছু সবজি কিনতে বাজারে এসেছি। কিন্তু দাম শুনে তো হতবাক হয়ে গেছি। একদিকে রমজানে আমাদের খরচ বেশি হয় তার ওপর পণ্যের বাড়তি দামের বোঝা আরও কষ্টদায়ক করে তুলছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারি করা প্রয়োজন।

হিলি বাজারে সবজি কিনতে আসা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আগামীকাল থেকে রমজান শুরু হচ্ছে। তার আগের দিনেই যেন কাঁচাবাজারে আগুন লেগেছে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে রমজানকে ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর হিড়িক বেধে যায় কে কত কমাতে পারে। আর আমাদের দেশে এর উল্টোটা; কে কত দাম বাড়াতে পারে সেই প্রতিযোগিতা চলছে। এভাবে যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে তাহলে আমরা সংসারের ব্যয়ভার মেটাবো কীভাবে। যেখানে একটু স্বস্তিতে রোজা রাখব, ইবাদত বন্দেগি করব; কিন্তু দ্রব্যমূল্যের বাড়তি দামের কারণে  সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে যতটুকু প্রয়োজনে তার চেয়ে কম পরিমাণে কিনতে হচ্ছে। তাই প্রশাসনের উচিত বিষয়টি তদারকি করা।

হিলি বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা সিদ্দিক হোসেন বলেন, পণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে আমাদের কোনো হাত নেই। আমরা যেমন দামে কিনছি সেই মোতাবেক বিক্রি করছি। রমজানকে ঘিরে মোকামেই বেশ কিছু পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। যে পেঁয়াজ দুদিন আগেও আমরা মোকামে ১ হাজার টাকা মন কিনেছি সেই পেঁয়াজ এখন ১৩০০ টাকা। ৬০০ টাকার খিরা ও বেগুন এখন দাম বেড়ে ১২০০ টাকা। এভাবে রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে সেসব পণ্যের দাম বাড়তি হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আমাদেরকে বাড়তি দামে কিনতে হওয়ায় সেই মোতাবেক বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, রমজানকে ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন স্বাভাবিক থাকে, নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আমরা নিয়মিত বিভিন্ন হাট-বাজারে অভিযান চালাচ্ছি। আর্থিক জরিমানাসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।