অনেকেই শখ করে বাড়িতে অ্যাকোয়ারিয়াম রাখেন। শখের এই জিনিসটি কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার।
টেবিলের ওপরও অ্যাকোয়ারিয়াম সাজানো যায়, আবার দেয়াল জুড়েও সেটি রাখা যায়। অ্যাকোয়ারিয়াম কিনলে, প্রথমেই স্থান নির্বাচন জরুরি। বসার ঘরে, না কি খাওয়ার জায়গায়, ঠিক কোনখানে রাখলে সবার নজর পড়বে, সেটি ভেবে নিন। বিভিন্ন আকার, আয়তনের অ্যাকোয়ারিয়াম যেমন পাওয়া যায়, তেমনই চাইলে দেওয়াল জুড়েও তা তৈরি করা যায়।
অ্যাকোয়ারিয়াম শুধু রাখলেই হবে না, নিয়ম করে সেটি পরিষ্কার করতে হবে। ফলে সহজে পরিষ্কার করা যায়, এমন কোথাও সেটি রাখুন। তবে জানালার সামনে বা বারান্দার খোলা জায়গায় অ্যাকোয়ারিয়াম রাখলে রোদের তাপে এবং শীতের দিনে পানির তাপমাত্রার হেরফের হতে পারে। সেসব মাথায় রেখে স্থান নির্বাচন জরুরি।
রকমারি মাছ যদি রাখতে চান, তাহলে কী কী রাখবেন স্থির করে তারপর উপযোগী অ্যাকোয়ারিয়াম কেনা দরকার। অন্যদিকে অ্যাকোয়ারিয়ামের আকার, সৌন্দর্য প্রাধান্য পেলে, সেই মতো মাছ বাছাই জরুরি। মিষ্টি পানির ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের মাছ রাখতে গেলে সাধারণত খরচ বেশি হয় না, মাঝারি মাপের অ্যাকোয়ারিয়ামেই তা রাখা যায়। তবে সামুদ্রিক মাছ রাখতে গেলে খরচ বেশি এবং তার উপযুক্ত আকারের অ্যাকোয়ারিয়াম প্রয়োজন।
অ্যাকোয়ারিয়ামের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণও কিনতে হবে। পানির সঠিক তাপমাত্রা বোঝার জন্য অ্যাকোয়ারিয়ামের পানি গরম রাখার যন্ত্র, থার্মোমিটার রাখা দরকার। অনেক মাছই তাপমাত্রার হেরফেরে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে বা মারাও যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রা ঠিক রাখা জরুরি। গরমের দিনে বরফ পানি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের দরকার পড়তে পারে। খুব ঠা-ার জায়গায় থাকলে দরকার হবে হিটার। পাশাপাশি, বাড়িতে সবসময় মাছ দেখাশোনার বা খেতে দেওয়ার কেউ না থাকলে তাদের খাবার দেওয়ার জন্য স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র লাগাতে হবে।
অ্যাকোয়ারিয়ামের অন্দরসজ্জাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অ্যাকোয়ারিয়ামের মেঝেতে প্রথমেই রকমারি নুড়ি বিছিয়ে দিন। তারপর ব্যবহার করতে পারেন জলজ উদ্ভিদ। জাভা ফার্ন, অ্যামাজন সোর্ড, ওয়াটার উইসটেরিয়া শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, পানির পরিবেশ, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই অক্সাইডের মাত্রার ভারসাম্য বজায় রেখে পানির অ্যাকোয়ারিয়ামের ভেতরের বাস্তুতন্ত্র ঠিক রাখতে সাহায্য করে।