শিশুর মানসিক এবং দৈহিক বিকাশ ঠিকভাবে হচ্ছে কি না তার জন্য বাবা-মা চিন্তিত থাকেন। অনেকেই অন্য বাচ্চার সঙ্গে নিজের বাচ্চার তুলনা করে চিন্তিত হয়ে পড়েন। কিন্তু বাচ্চার বয়স অনুযায়ী আচরণ বা সক্ষমতা জানা থাকলে আপনি অযথা টেনশনের হাত থেকে বেঁচে যাবেন। অন্যদিকে সত্যিই যদি বাচ্চার বিকাশে কোনো অসুবিধা থেকে থাকে তাও ঠিক সময়ে বুঝতে পারবেন। আসুন, জেনে নিই বাচ্চাদের কোন বয়সে কী করতে পাড়া উচিত।
১ মাস : প্রথম এক মাস বয়সে বেশিরভাগ সময় শিশু ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। কিন্তু কিছু ব্যাপার শিশুর এক মাস বয়সেই করা উচিত। যেমন : গালে বা মাথায় হাত বোলালে সেদিকে মাথা ঘোরানো, উভয় হাত মুখের দিকে আনা, পরিচিত গলার আওয়াজ বা শব্দ শুনলে সেদিকে ঘোরা, স্তন চোষা এবং হাত দিয়ে ছোঁয়া এই বয়সে করতে পাড়া উচিত।
১ থেকে দেড় মাস : শিশু বুঝে, হাসতে শেখে। ঘুমের মধ্যে বা অকারণে হাসা শিশুরা জন্ম থেকেই করে। পরিচিত মুখ দেখে বা শব্দ শুনে, বুঝে হাসতে শেখা দেরি হলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
৩ মাস : নরম ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। ঘাড় সোজা করে, মাথা ঘুরিয়ে এদিক-ওদিক দেখতে শিখে। ছোট ছোট অনুকরণ যেমন কেউ জিহ্বা বের করলে সেও বের করে।
৫ মাস : সাপোর্ট দিলে বসতে পারে। একা একা কয়েক সেকেন্ড পরেই ডান বা বামে ঢলে পড়ে।
৬-৭ মাস : নাম ডাকলে সারা দেয় । সামনে কোনো জিনিস ধরলে হাত বাড়ায়, ধরে। ফেরত চাইলে দিয়েও দেয়। মুখে শব্দ করা শিখে । বাব্ বাব্ কিংবা দাদ্, দাদ্ বলে। আপন-পর বুঝতে শিখে।
৮ মাস : সোজা করে বসতে শিখে। চিত থেকে উপুড় এবং উপুড় থেকে সোজা হতে পারে। হাত তালি দিতে শিখে।
৯-১০ মাস : হামাগুড়ি দেয়। জিনিস ধরে দাঁড়াতে শিখে। পরিষ্কার শব্দ বলা শুরু করে। বাই বাই করতে শেখে।
১১-১২ মাস : নিজে নিজে মুখে খাবার দিতে চেষ্টা করে। তর্জনী বা বৃদ্ধাঙ্গুলি ব্যবহার করে মুড়ি বা ছোলার মতো বস্তু ধরার চেষ্টা করে। কোনো কিছুর প্রতি নির্দেশ করতে পারে। হাত ধরলে হাঁটতে পারে।
১৮ মাস : একা কয়েক ধাপ হাঁটতে পারে। ২ শব্দের বাক্য বলতে পারে।
২৪ মাস : শব্দ ভা-ার ১০০-এর বেশি হয়। দুই বা তিন শব্দের বাক্য বলে। ৪টি কিউব দিয়ে টাওয়ার বানাতে পারে। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতে পারে।
৩ বছর : স্বচ্ছন্দে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারে। নিজে নিজে পোশাক পরার চেষ্টা করে। ছোট ছোট গল্প বলতে পারে।