যেকোনো নির্বাচনের আগে জুলাই অভ্যুত্থানের অপরাধীদের দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন দেখতে চান বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ আলাদা। জুলাই ঘোষণাপত্র ছিল ছাত্রদের দাবি। আর প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে জুলাই সনদ হবে। আমরা চাই নির্বাচনের আগেই এই জুলাই সনদের ঘোষণা করা হোক।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজকের সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক যে নারীর উপর সহিংসতা ঘটছে দেশের বিভিন্ন স্থানে, ধর্ষণ, ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনা ঘটছে- এসব ঘটনায় নাগরিক পার্টি উদ্বেগ ও নিন্দা জানাচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নারী নিপীড়নকারীদের যথাযথ বিচারের আওতায় আনা হয়।
রয়টাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, এবছর দেশের নির্বাচন সম্ভব নয় একথা আমি বলিনি। আমি বলেছিলাম দেশের যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ যেভাবে নাজুক অবস্থায় আছে, এরকম নাজুক অবস্থা নির্বাচন করা অনেক কঠিন হবে। এই পুলিশ প্রশাসনে কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা নেই। তাদের সক্ষমতা পরীক্ষা হয় না দীর্ঘদিন ধরে। নির্বাচনের আগে আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি অবশ্য উন্নত করতে হবে। আমরা নির্বাচনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি রয়েছি।
তিনি বলেন, ইন্টারভিউতে কিছু মিস কোড হয়েছে। আমি বলেছিলাম যে, আমাদের আর্থিক বিষয়ে সমাজের যে স্বচ্ছল মানুষ বা শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে তারা মূলত আমাদেরকে সহযোগিতা করে। আমরা একটা অনলাইন এবং অফলাইন কেন্দ্রিক ক্রাউড ফান্ডিংয়ের দিকে যাচ্ছি। ক্রাউড ফান্ডিং এর মাধ্যমে কার্যালয় স্থাপনসহ ইলেকশন ফান্ডিং রিচ করব। বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটা ভুল এসেছে, এটা সংশোধনের জন্য অনুরোধ থাকবে।
৩০০ আসনে দলটির প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাহিদ ইসলাম বলেন, দল আত্মপ্রকাশের পর আমরা এখন নিবন্ধনের শর্তাবলীর প্রতি গুরুত্বারোপ করছি, সাংগঠনিক বিস্তারে মনোযোগ দিয়েছি। রোজার পর এগুলো পুরোদমে চলবে। এরপর আমরা ভাববো।
এদিকে, দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্রমান্বয়ে সক্রিয় করতে নিজেদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।
কর্মসূচি ঘোষণা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জুলাই ও আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যসহ সকল অংশীজনদের নিয়ে আগামী ১০ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হবে। সারা দেশের সকল অংশীজনরা এতে অংশ নেবেন। অন্যদিকে, ১১ মার্চ ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, ও কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল করা হবে।