হাঁটুব্যথা প্রতিকারে সচেতন থাকা দরকার

হাঁটুব্যথায় ভোগা মানুষের সংখ্যা যেন বাড়ছে। হাঁটুব্যথা কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবদেহের ওজন বহন করার জন্য যে কটি জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধি রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাঁটু। দেশে হাঁটু ব্যথাকে প্রধানত বয়স্ক ব্যক্তিদের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। তবে যেকোনো বয়সের মানুষের হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। এটি বিভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে, যেমন আঘাত, বয়সজনিত ক্ষয়, অতিরিক্ত ওজন বা দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে বসা-চলা।

কারণ

আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি হাঁটুর জয়েন্ট ক্ষয় করে ব্যথার কারণ হতে পারে।

লিগামেন্ট বা মেনিসকাস ইনজুরি হাঁটুতে অতিরিক্ত চাপ বা আঘাতের ফলে লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে ব্যথা হতে পারে।

ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজন বেশি  হলে হাঁটুর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে ক্ষয় এবং ব্যথা হয়।

গাউট বা ইউরিক অ্যাসিড জমা রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে হাঁটুতে ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

চলাফেরার ভুল অভ্যাস দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা হাঁটুতে বেশি চাপ সৃষ্টি করা হাঁটু ব্যথার কারণ হতে পারে।

প্রতিকার ও প্রতিরোধ

ওজন বেশি হলে হাঁটুর ওপর চাপ কমানোর জন্য নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। এর ফলে হাঁটুর চারপাশের পেশিগুলো শক্তিশালী হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাহাঁটি করা এবং হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া। এ ছাড়া বসার সময়ও সঠিকভাবে বসতে হবে। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার হাঁটুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। উচ্চ হিল এড়ানো। কারণ বেশি উচ্চতার জুতা হাঁটুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে করে। তাই আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করা উচিত।

চিকিৎসা

প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যথা কমাতে আইস প্যাক ব্যবহার করা ও বিশ্রাম নেওয়া। ওষুধ গ্রহণÑ ব্যথা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পেইনকিলার বা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ নেওয়া যেতে পারে। ফিজিওথেরাপি বিশেষ কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে হাঁটুর ব্যথা কমানো যায়। ইনজেকশন বা সার্জারিÑ মারাত্মক ক্ষতির ক্ষেত্রে চিকিৎসক স্টেরয়েড ইনজেকশন দিতে পারেন, অথবা লিগামেন্ট রিপেয়ার বা জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক জীবনযাত্রা এবং নিয়মিত যতেœর মাধ্যমে হাঁটু ব্যথা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।