ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ঢাকা মহানগর এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা) সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৫০টি থানা এলাকায় রাতে ৩৪০টি ও দিনে ৩২৭টি টিম দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৭১টি পুলিশি চেকপোস্টসহ সিটিটিসি, এটিইউ, এপিবিএন এবং র‌্যাবের টহল টিম দায়িত্ব পালন করেছে।

গতকাল শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, জননিরাপত্তা বিধান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ঢাকা মহানগর এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ডিএমপিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিত চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম বাড়িয়েছে।

ডিএমপির ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের তথ্য জানিয়ে তালেবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ৫০টি থানা এলাকায় জননিরাপত্তা বিধানে দুই পালায় ৬৬৭টি টহল টিম দায়িত্ব পালন করে। এর মধ্যে রাতে ৩৪০টি ও দিনে ৩২৭টি টিম দায়িত্ব পালন করে। টহল টিমগুলোর মধ্যে রয়েছে মোবাইল প্যাট্রল টিম ৪৭৯টি, ফুট প্যাট্রল টিম ৭৩টি ও হোন্ডা প্যাট্রল টিম ১১৫টি। এছাড়া মহানগর এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে ডিএমপি কর্তৃক ৭১টি পুলিশি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তারদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছে ৬ জন ডাকাত, ২২ জন পেশাদার সক্রিয় ছিনতাইকারী, ৪ জন চাঁদাবাজ, ৭ জন চোর, ২০ জন চিহ্নিত মাদক কারবারি, ৩০ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ অন্যান্য অপরাধে জড়িত অপরাধীরা।

অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত একটি পিস্তলের ম্যাগজিন, তিনটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাকু, একটি হ্যাকসো ব্লেড, একটি সার্কিট ব্রেকার, তিনটি চাবি, একটি চাবির রিং, একটি ব্যাগ, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৬৩ কেজি ৫৭০ গ্রাম গাঁজা ও ৫০ পিস ইয়াবা। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ৬৭টি মামলা করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার ২৬ : অপারেশন ডেভিল হান্টের অংশ হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার দুপুরে এ তথ্য জানান মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) এ কে এম মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেনÑ হত্যা মামলার আসামি ফারুক, রানা, নাছির, রাজিব সিকদার, মেহেদী হাসান সবজি, মুন্না উরফে বোমা মুন্না, শুকুর আলী, জানু, রাসেল, জাবেদ, মিঠুন, শহিদুল ইসলাম সোহেল, ইসমাইল, আ. রহিম, সাইদ, নাজমুল, নাদিম, মুরাদ, আলাউদ্দিন,  জনি, সোহেল রানা, রেদওয়ান হাসান, সোহাগ, জাহিদ, বোরহান উদ্দিন ও হাসিব মিট্জ। তাদের মধ্যে মাদক মামলায় ১৪ জনকে, দ্রুত বিচার আইনে ৪ জন, ডিএমপির মামলায় ৫ জন, খুনের মামলায় ২ জন ও ডাকাতির মামলায় ১ জনসহ মোট ২৬ জন। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দারুস সালামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ২: রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্রসহ ডাকাত দলের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দারুস সালাম থানা পুলিশ ও যৌথবাহিনী। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার পর দারুস সালাম থানাধীন বসুপাড়ার একটি বাসায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সাকলাইন খান তামিম ও মো. আব্দুল্লাহ নয়ন। এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা ছয়টি লোহার ছুরি, তিনটি লোহার চাপাতি, একটি সুইচ গিয়ার, একটি হাতুড়ি, একটি লোহার দা ও একটি স্টিলের ছিদ্রযুক্ত ধাতব নাকেল উদ্ধার করা হয়।