বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি পুকুরে স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির জোরপূর্বক মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গত সোমবার সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনাটি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের চর শোনপঁচা গ্রামে একটি সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের পুকুরের। এদিকে প্রভাবশালী কামাল মন্ডল ও জয়নাল মন্ডল পুকুরটি তাদের পৈত্রিক বলে দাবি করেছেন। অভিযুক্ত প্রভাবশালীরা চর শোনপঁচা গ্রামের একই গ্রামের মৃত রহমত মন্ডলের দুই ছেলে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের চর শোনপঁচা গ্রামে একটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণের সময় সরকারি পয়স্তি জমি অধিগ্রহণ করে সেখান থেকে মাটি উত্তোলন করা হয়। ফলে অধিগ্রহণকৃত জমিতে বিশালাকার পুকুরের সৃষ্টি হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুকুরেটিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে মাছ চাষ করতে পারবেন এবং মাছ শিকার করতে পারবেন। কিন্তু সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালী দুজন জোরপূর্বক মাছ চাষ করে আসছেন।
আশ্রয়ণবাসীদের মধ্যে কয়েকজন বলেন, আমাদের গ্রামের সকলের জন্য বরাদ্দকৃত পুকুরের মাছ প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান। আমাদের বা গরু ছাগলকে পুকুরে গোসল করতেও তারা নামতে দেন না। এরা আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দেখাতেন, এখন আবার বিএনপির সময় বিএনপির ক্ষমতা দেখাচ্ছেন।
অভিযুক্ত কামাল মন্ডল বলেন, জমিগুলো আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমরা মাছ চাষ করছি। অভিযোগটি শত্রুতা করে করা হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমরা হাতে পেয়েছি। অভিযোগটির তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুকুরটি খাস জমিতে হলে তা আশ্রয়ণবাসীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।