মাহফুজুর রাব্বির দুর্দান্ত বোলিংয়ে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে মাত্র ১০০ রানে গুটিয়ে দিয়ে সহজ জয় তুলে নিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। পাঁচ উইকেটের বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর পারভেজ হোসেন ইমনের ঝলমলে ব্যাটিংয়ে আট উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছে শিরোপার দৌড়ে থাকা দলটি।
মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে পারটেক্স। তবে শুরু থেকেই আবাহনীর বোলারদের তোপে বিপর্যস্ত হয় তারা। প্রথম আঘাত হানেন এনামুল হক, যার গুড লেংথের ডেলিভারিতে খোঁচা মেরে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ মিঠুনকে ক্যাচ দেন তিন রান করা রবিউল ইসলাম রবি।
এরপর জয়রাজ শেখ ও সাব্বির রহমান রোমান মিলে ৫৫ রানের জুটি গড়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। তবে ৪৪ বলে ২৩ রান করা সাব্বিরকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন রাকিবুল হাসান। এরপরই শুরু হয় মাহফুজুর রাব্বির জাদু। ১২ বলে এক রান করা রুবেল মিয়াকে ফেরানোর পর দুই বলের ব্যবধানে ৫৯ বলে ৩৬ রান করা জয়রাজকেও উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি।
এরপর পারটেক্সের ব্যাটিং লাইনআপ একের পর এক ধসে পড়ে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বোল্ড করেন মাত্র এক রান করা জাওয়াদ রোয়েনকে, পাঁচ রান করা আহরার আইন পিয়ানকে ফেরান লং অনে ক্যাচ বানিয়ে। পরবর্তী ওভারে মাহফুজুর শূন্য রানে বিদায় করেন আলাউদ্দিন বাবুকে। এরপর ৩১তম ওভারে বোল্ড করে তানভির হোসেন ও মোহর শেখকে ফেরান মাহফুজুর, পূরণ করেন নিজের পাঁচ উইকেটের কোটা।
শেষ উইকেটটি নেন রাকিবুল হাসান, যখন ৩৩.১ ওভারে ১০০ রানে থামে পারটেক্সের ইনিংস। প্রথম ৬৫ রানে দুটি উইকেট হারানো দলটি শেষ ৪৫ রানে হারায় আরও আট উইকেট।
১০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আবাহনী। ২১ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারায় দলটি। ছয় রান করা জিশান আলম লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হন, এরপর মাত্র দুই রান করে ফেরেন মুমিনুল হক।
তবে এরপর পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে জয় এনে দেন। ৫০ বলে ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন ইমন, আর ২৭ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন মোসাদ্দেক।
এই জয়ে শিরোপার দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আবাহনী লিমিটেড।