সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, তার স্ত্রী ফেরদৌসী খান ও ছেলে ফাহিম সাদেক খানের ২১টি ব্যাংকে হিসাবে ৪ কোটি ২০ লাখ ৭ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং জেমকন গ্রুপের ৩৬ কোম্পানির ৪ কোটি ২৬ লাখ ৬ হাজার ৮৬৮টি শেয়ারের দাম ৬০ কোটি ৪৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন এ আদেশ দেন। সাদেক খানের ৫টি ও ফাহিম সাদেক খানের ২টি ও ফেরদৌসী খানের ১৪টি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুদকের সহকারী পরিচালক কেএম মর্তুজা আলী সাগর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মো. সাদেক খানের স্ত্রী ফেরদৌসী খান এবং সাবেক সংসদ সদস্য মো. সাদেক খানের বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ স্বার্থে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য তার স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৫ কোটি ৯৮ লাখ ৩২ হাজার ৫২১ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনপূর্বক তা নিজ দখলে রাখেন।
তদন্তকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ফেরদৌসী খান ও মো. সাদেক খানের নামে অর্জিত অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর বা অন্য কোনো পন্থায় মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তর করে বহিঃবাংলাদেশে গমন করে আত্মগোপনের সম্ভাবনা রয়েছে। মামলাটি তদন্তের স্বার্থে ফেরদৌসী খান এবং আসামি মো. সাদেক খানের নামে অর্জিত অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধকরণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া জেমকন গ্রুপের ৩৬ কোম্পানির ৪ কোটি ২৬ লাখ ৬ হাজার ৮৬৮টি শেয়ারের দাম ৬০ কোটি ৪৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছে একই আদালত। দুদকের পক্ষে শেয়ার অবরুদ্ধের আবেদন করেন উপসহকারী পরিচালক রেজাউল করিম।
আবেদনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানকালে দেখা গেছে, জেমকন গ্রুপের মালিকপক্ষ কাজী নাবিল আহমেদ, কাজী আনিস আহমেদ, কাজী ইনাম আহমেদ, মৃত কাজী শাহেদ আহমেদ ও তার স্ত্রী আমিনা আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন কোম্পানির ৪ কোটি ২৬ লাখ ৬ হাজার ৮৬৮টি শেয়ারের মালিক। এসবের মূল্য ৬০ কোটি ৪৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এই শেয়ারগুলো হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি তারা সফল হন, তাহলে অনুসন্ধান ও মামলা করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।