চট্টগ্রামে জামায়াতের ইফতার রাজনীতি, টার্গেট ছয় আসন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান জানান দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। পুরো রমজান জুড়ে ইফতার মাহফিল ও  ইফতার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটের মাঠ গোছানোর কাজ করছেন দলের মনোনীত প্রার্থীরা।

সরকারের পক্ষ থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কোনো রোডম্যাপ দেওয়া না হলেও চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের সবক’টিতেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী এসব প্রার্থী স্ব স্ব এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন নিয়মিত।

দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে রমজান মাসে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকাকে টার্গেট করে ইফতার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরও একই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছে। বিভিন্ন আসনে দলের মনোনীত প্রার্থীরা এসব কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা না হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে  প্রত্যেক আসনের প্রার্থীকে তাদের মনোনয়নের বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী মাঠ গোছানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে তাদের।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর তিনটি, উত্তর জেলার সাতটি ও দক্ষিণ জেলার ১৬টি আসনে দলের প্রার্থী তালিকা প্রায় এক মাস আগে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তালিকায় থাকা প্রার্থীরা হলেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকু-) আসনে আনোয়ার সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে শাহজাহান মঞ্জুর, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে ডা. আবু নাসের, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে ডা. ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে শফিউল আলম, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ইঞ্জিনিয়ার মো. লোকমান, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে শাহাদাত হোসাইন, চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে শাহজাহান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জহিরুল ইসলাম।

এই ১৬ আসনের মধ্যে ভালো ভোট ব্যাংক রয়েছে এমন ছয়টি আসনকে আগামী নির্বাচনের জন্য টার্গেট করে এসব এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। মানুষের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা  তৈরি করা যায় এমন কার্যক্রমের ওপর এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে গিয়ে ভিন্ন আদর্শের রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে না যাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে নেতাকর্মীদের প্রতি।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় কর্মী-সমর্থকদের বেশির ভাগ এখনো দলীয় নেটওয়ার্কের বাইরে রয়ে গেছে। তাদের সংগঠিত করতে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক স্তরগুলোতে কর্মী সম্মেলন ও কর্মী শিক্ষা শিবির নামে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি করা হচ্ছে। দলের সিনিয়র নেতারা এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে জামায়াতের কর্মকা- সম্পর্কে অতীতের নেতিবাচক ধারণা দূর করার কৌশলের বিষয়ে কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক পরিধিকে সম্প্রসারণ করে মাঠ পর্যাযে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি সম্ভব বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

চট্টগ্রামে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয় চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনটিকে। ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন দলটির বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়া, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনেও ভালো সমর্থন রয়েছে দলটির। বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের আমির জহিরুল ইসলাম সেখানে উপজেলা চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড), চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসনেও ভালো অবস্থান তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে দলটি। এছাড়া প্রতিটি এলাকায় প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক সৃষ্টির বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলা ও থানা পর্যায়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে তারা।