পিপির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ

বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আসামিদের পক্ষে বাদীর কাছ থেকে ওকালতনামা ও চারটি নীল কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১২ ও ১৩ মার্চ) দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী মো. আসাদুল আহসান হাং আসলাম।  

ভিডিও বক্তব্যে আসলাম জানান, ভুক্তভোগী শেখ সাদী একজন ইট-বালু ব্যবসায়ী। তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করলে তিনি বাদী হয়ে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। ১২ মার্চ আসামিরা জামিন আবেদন করলে আদালত তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ও পাঁচজনের জামিন মঞ্জুর করেন। এদিন আদালত চত্বর থেকে আসলামকে জোরপূর্বক পিপির রুমে নিয়ে গিয়ে মারধর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।  

এ বিষয়ে পিপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, মামলাটি মীমাংসার জন্য বাদী ও আসামিরা তার কাছে এসেছিলেন এবং বাদী নিজ ইচ্ছায় স্বাক্ষর দিয়েছেন। তবে পরে বাদী আসলাম প্রতিবেদকের কাছে ফোন করে জানান, সংবাদ প্রকাশ হলে তিনি বরিশালে থাকতে পারবেন না এবং তার ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।  

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে মামলার সাক্ষীরা ড্রেজারের পাইপ সংযোগ করছিলেন। তখন আসামিরা অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থলে এসে বালু ফেলতে হলে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করে। সাক্ষীরা প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাদের মারধর করে, ৫-৭টি পাইপ ভেঙে ২০ ফুট লম্বা ৬ ইঞ্চির ২০টি পাইপ নিয়ে যায়।

পরদিন (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামলার ৩ নম্বর সাক্ষীকে নামিয়ে দিয়ে ১ নম্বর সাক্ষী মো. শেখ সাদী বরিশাল-ঝালকাঠি মহাসড়কের রুপাতলী জাগুয়া কলেজের উত্তর পাশে গ্যাসের গুদামের সামনে গেলে আসামিরা তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা পাঠান। সেখানে পঙ্গু হাসপাতালে তিনি ১ মাস ৭ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ভুক্তভোগী অসুস্থ শেখ সাদী বলেন, ‘আমি স্বাভাবিকভাবে হাত-পা ব্যবহার করতে পারবো না বলে মনে হয়। আসামিরা আমাকে নিশ্চিত মৃত্যু ভেবে ফেলে রেখে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছি। আমি সরকারের, সেনাবাহিনীর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমি একা, কারও কাছে যেতে পারি না, কারণ হাঁটতে পারি না।’

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, ‘একজন পিপি এমন কাজ করতে পারেন বলে বিশ্বাস হয় না।’

সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মির্জা রিয়াজ বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের কোনো পিপির আসামিদের পক্ষ নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি আইনবহির্ভূত।’

মামলায় উল্লেখিত আসামিরা হলেন— মো. হুমায়ুন কবির রিপন ওরফে ফেন্সি রিপন, জিয়াউর রহমান, মো. সাইদুল, মিথুন খান, মো. রাজীব, মনজু, মো. রাকির গাজী, তোতা খাঁন, মো. রিয়াজ, হারিচ হাওলাদার, মো. ছালাম মোল্লা, মো. সরোয়ার, মো. মাহাবুব, মো. তানজিল, মো. রিয়াজ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জন।

একাধিক আইনজীবী জানান, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কখনোই আসামির পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা উচিত।