কুমিল্লার লাকসামে স্বামীকে আটকে রেখে পরিত্যক্ত বাড়িতে এক গৃহবধূকে দুই দফায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের সোমবার (১৭ মার্চ) আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলো- লাকসাম উপজেলার মনোহরপুর এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৫), পৌরসভার শ্রীপুর মধ্যপাড়ার মো. মমিনের ছেলে মো. মাসুদ (২৩), বাতাখালী এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মনির হোসেন হৃদয় (২৩), উত্তর বিনই এলাকার মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আল আমিন (২৩) ও মধ্য লাকসাম এলাকার মৃত মোস্তাফিজ মজুমদারের স্ত্রী বিলকিছ আক্তার কল্পনা (৪০)।
পুলিশ জানায়, ওই দম্পতি গত বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) নানা শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য লাকসাম সদরে আসেন। পরদিন ভোরে তারা লাকসাম বাইপাস মোড় থেকে বাড়ি ফেরার জন্য সিএনজিতে ওঠেন। সিএনজিচালক মো. মাসুদ তারা স্বামী-স্ত্রী কিনা জানতে চেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে কৌশলে তাদের লাকসামের গন্ডামারা এলাকায় নিয়ে যান। অভিযুক্তরা তাদের ব্যাগ তল্লাশি করে। পরে পরিকল্পিতভাবে তাদের পাশের লালমাই উপজেলার মগবাড়ি এলাকায় নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে অপহরণ করে লাকসামে নিয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, পরে ভুক্তভোগীকে লাকসামের পাইকপাড়া এলাকায় সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের শ্যালক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত আলীর একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্ত মো. মাসুদ ও মোহাম্মদ আলী তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ভুক্তভোগীকে লাকসাম পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার ভিলায় আসামিদের পরিচিত বিলকিছ আক্তার কল্পনার ভাড়াবাসায় নিয়ে শনিবার আবারও সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই গৃহবধূ উদ্ধার হন। এ ঘটনায় রবিবার রাতে লাকসাম থানায় মামলা দায়ের করেন ওই নারীর মা। পরে রবিবার পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ওসি নাজনীন সুলতানা বলেন, ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার হয়। আদালতের মাধ্যমে তাদের কুমিল্লা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রাখা হয়েছে।