অপহরণের পর শিক্ষার্থীকে দিয়ে করানো হয় ভিক্ষা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে অপহরণের পর এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে দিয়ে টাঙ্গাইল রেলস্টেশনে ভিক্ষা করানো হচ্ছিল। সেই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারসহ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার হোসেন।

অপহরণকারীর নাম আল-আমিন (২০)। ভুক্তভোগী শিশুর নাম রাইয়ান। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার চেঙ্গাকান্দি এলাকায়। রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘টাঙ্গাইল রেলস্টেশনে এক শিশুকে ভিক্ষা করতে বাধ্য করছিল এক তরুণ। শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে বারবার হুমকি-ধমকি দিয়ে ভিক্ষা করানোর বিষয়টি দায়িত্বরত রেল পুলিশের নজরে এলে ওই তরুণকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার তথ্য।’

রেল পুলিশের কর্মকর্তারা জানতে পারেন, সোনারগাঁ থানার চেঙ্গাকান্দি এলাকার মাদ্রাসাপড়ুয়া শিশু রাইয়ানকে ভালো থাকা-খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ফুসলিয়ে টঙ্গী এলাকায় এনে আটকে রাখেন একই এলাকার আল-আমিন। পরে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে রাইয়ানের বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আল-আমিন। শিশুসন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় তিনবার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু টাকা আদায় করার পরও শিশুটিকে ছাড়েননি আল-আমিন। বরং টঙ্গী থেকে শিশুটিকে টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যায়। শিশুকে হত্যার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন ট্রেনে ও স্টেশনে জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করে আসছিল আল-আমিন। এমনকি ভালোভাবে ভিক্ষা করতে না পারায় শিশুকে মারধর করা হয়। শিশুটির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পেয়েছে।

রেল পুলিশের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘অপহরণের শিকার রাইয়ান তার গ্রামের চেঙ্গাকান্দি দারুল কোরআন মাদ্রাসার মক্তব শাখার শিশু। অপহৃত শিশু ও অপহরণকারী একই গ্রামের বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও গ্রেপ্তার অপহরণকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’