বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডায় রফিকুল ইসলামকে হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এমএ আজহারুল ইসলাম উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক শফিউল আলম রিমান্ডের এ আবেদন করেন।
আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে কেদে ফেলেন শাজাহান খান। আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘পিপি সাহেব বলেছেন, আন্দোলনে পুলিশ গুলি করেছে। সে অর্ডার তো দিতে পারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গুলি চালানোর অর্ডার তো আমি দিতে পারি না। আমি জড়িত নই। কেন আমার বিরুদ্ধে এ মামলা হলো? শুধু আমার বিরুদ্ধে না, আমার বড় ছেলে আসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। সে এখন জেলে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘পাঁচ মাস ধরে আমার ছেলের সঙ্গে দেখা নেই। আমার ছেলে কী করেছে? আমি ঢাকায় থাকলেও ছেলে থাকত মাদারীপুরে। আপনি এখনই চেক করতে পারেন।’
তখন বিচারক বলেন, ‘আপনার বিষয়ে আইনজীবী কথা বলেছেন।’ শাজাহান খান দুই হাত জোড় করে কথা বলার জন্য সময় চান। তিনি বলেন, ‘একটু সময় দিন। ওনারা (আইনজীবী) ভালোভাবে বিষয়টা বলতে পারেননি। সিরাজুল চেয়ারম্যান ৬টা হত্যা মামলার আসামি। আমি তার পক্ষে ছিলাম না। তাই ষঢ়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলা দিয়েছে।’ এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে টিস্যু দিয়ে চোখ মুছতে থাকেন শাজাহান খান।