ফেডারেল বিচারকের রোষে ট্রাম্প প্রশাসন

অভিবাসীদের বহিষ্কার সংক্রান্ত ফ্লাইট নিয়ে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করার অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচারক জেমস বোয়াসবার্গ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার একটি ব্যতিক্রমী শুনানিতে বিচারক প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন বিচারক বোয়াসবার্গ ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের বহিষ্কার সংক্রান্ত ফ্লাইটগুলো ফেরানোর মৌখিক আদেশ দেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এই আদেশ উপেক্ষা করে ফ্লাইটগুলো হন্ডুরাস ও এল সালভাদরে পাঠিয়ে দেয়। এ নিয়ে আদালতে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) একটি আবেদন দাখিল করে, যাতে অভিযোগ তোলা হয় যে প্রশাসন আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছে।

শুনানিতে মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিওজে) আইনজীবী অভিষেক কাম্বলি ফ্লাইট সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে তিনি ‘অনুমোদিত নন’। এতে বিচারক বোয়াসবার্গ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এটি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছিলাম, কিন্তু আপনি বলতে চাইছেন যে খুব স্পষ্ট একটি নির্দেশ আপনি উপেক্ষা করতে পারেন কারণ এটি লিখিত আদেশে ছিল না?’

বিচারক আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘এই বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফেরানো কি ভালো সিদ্ধান্ত হত না? তার বদলে আপনারা বললেন, ‘আমরা যা ইচ্ছা করব?’

গতকাল বিকেলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘বিচারকের লিখিত আদেশ আসার আগেই সংশ্লিষ্ট সব বিমান যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা ছেড়ে চলে গিয়েছিল।’ তবে তিনি স্বীকার করেন যে আদালতের আদেশ, মৌখিক হোক বা লিখিত, সাধারণত সমানভাবে বাধ্যতামূলক।

এসিএলইউ জানিয়েছে, বিচারক বোয়াসবার্গ শনিবার সন্ধ্যায় বিমান ফিরিয়ে আনার মৌখিক আদেশ দেন, কিন্তু সরকারি ফ্লাইট তথ্য অনুযায়ী, বিমানগুলো হন্ডুরাস ও এল সালভাদরে অবতরণ করে।

শুনানির সময় বিচারক প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘যদি ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব না হয়, তবে গোপনীয়তার জন্য ‘‘হাশার’’ ব্যবহার করা যেতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, "আমি এটি লিখিত আদেশে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করব, যেহেতু আমার মৌখিক আদেশের খুব একটা মূল্য নেই বলে মনে হচ্ছে।’

শুনানি শেষে বিচারক আদেশ দেন যে প্রশাসনকে ফ্লাইটের নির্দিষ্ট সময়সীমা জমা দিতে হবে বা এ সংক্রান্ত তথ্য না দেওয়ার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হবে আজ মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে।

এ ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং আদালতের আদেশ উপেক্ষার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালত ও প্রশাসনের মধ্যে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।