'বর্তমানে নারী নির্যাতন মহামারির মতো আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন শত শত নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।'
আজ বুধবার (১৯ মার্চ) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংগঠনের সদস্যরা এসব দাবি জানান।
অব্যাহতভাবে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য হেনা চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না, সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনূস, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর, ঢাকা মহানগরের কলাবাগান আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দা রত্না, সদস্য খালেদা ইয়াসমীন কনা, কেন্দ্রীয় অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামী এবং লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাড. দীপ্তি শিকদার।
সভাপতির বক্তব্যে হেনা চৌধুরী বলেন, নারীরা কর্মসূত্রে বিদেশে গিয়েও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছেন এবং সেখানে তারা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের কারণে নারীর মৃত্যু হলেও তা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।
ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না বলেন, বর্তমানে নারী নির্যাতন মহামারির মতো আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন শত শত নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস বলেন, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নারীর অগ্রগতির প্রধান অন্তরায়। তিনি তরুণ প্রজন্মকে মানবিক ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারায় দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর, সৈয়দা রত্না এবং খালেদা ইয়াসমীন কনা নারীর পোশাক, চলাফেরা এবং কাজের স্বাধীনতায় কটূক্তির বিরোধিতা করেন। তারা ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করে নারীর জন্য নিরাপদ সাইবার দুনিয়া গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
জনা গোস্বামী জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ১৮৯ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৪৮ জন ধর্ষণের শিকার। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি কার্যকর বিচার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
অ্যাড. দীপ্তি শিকদার বলেন, নারী নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হলেও ভুক্তভোগী, তার পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ, সম্পাদকমণ্ডলী, পাড়া কমিটির সদস্য, কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ ৫০ জন অংশ নেন। মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন অর্থ সম্পাদক ফেরদৌস জাহান রত্না।