ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নতুন করে বিমান হামলা জোরদার করার পর এবার গাজায় স্থল অভিযানের পরিধি বাড়িয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এই হামলায় ৪৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, উত্তর থেকে দক্ষিণ পুরো উপত্যকা জুড়েই তাণ্ডব চালাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী আইডিএফ। গাজায় উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে আংশিক বাফার জোন তৈরির লক্ষ্যে স্থলভাগে তৎপরতা শুরু করার কথা জানিয়েছে তারা। আইডিএফ বলেছে, তাদের সেনারা নেতজারিম করিডর পর্যন্ত চলে গেছে যেটি গাজা উপত্যকাকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করেছে। নতুন করে উপত্যকাটিতে মানবিক সংকট প্রতিরোধে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষ।
গাজায় নতুন করে হামলার ফলে জানুয়ারি থেকে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যত সমাপ্তি ঘটেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েল পূর্ণশক্তিতে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করেছে এবং এটি কেবল শুরু। উত্তর গাজার বেইত হানুনসহ সামরিক বাহিনী যেসব এলাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছে সেখান থেকে মানুষজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থল সীমান্তের তিন পাশের যে বিশাল এলাকা জুড়ে মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে যে শিগগিরই বড় পরিসরে একটি স্থল অভিযান শুরু হতে পারে। এই আদেশের কারণে বাস্তুচ্যুত যেসব পরিবার যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ি ফিরে এসেছিল তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য মার্চের শুরুতে ইসরায়েল গাজায় খাদ্য, জ¦ালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এবার বড় পরিসরে বিমান হামলার পর স্থল অভিযানে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও রাফাহে নির্বিচারে বিমান থেকে বোমা ফেলা হচ্ছে।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, উপত্যকা জুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধবিমান টহল দিচ্ছে এবং আর্টিলারি তথা গোলন্দাজ ইউনিট নতুন করে অবস্থান নিয়েছে। স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নেতানিয়াহুর সেনারা। নেতজারিম করিডর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। মূলত করিডরটি দিয়ে গাজার মানুষের চলাচল সীমিত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে আইডিএফ। গাজার মানুষদের পুনরায় বাস্তুচ্যুত করার নীলনকশারই অংশ এটি। আবারও উত্তর গাজা থেকে বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরে যেতে বাধ্য করছে ইসরায়েল। এরই মধ্যে অনেকেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে সরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চান সংস্থাটির ফিলিস্তিনি দূত। তিনি বলেন, একদিনে ৪৩৬ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলিরা, যাদের মধ্যে ১৮৩ জনই শিশু। নিরস্ত্র বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে এই নির্মম ও বেআইনি বলপ্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলের সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যার কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে, নিরাপত্তা পরিষদের যে সামান্য বিশ্বাসযোগ্যতা এখনো অবশিষ্ট রয়েছে, তাও আরও ক্ষুণœ হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটিতে নতুন করে মানবিক সংকট সৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলে হামলা ও আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।