গাজায় নিহত আরও ৮৫, তিন দিনে প্রাণহানি প্রায় ৬০০

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় প্রাণহানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। এ নিয়ে গত তিন দিনে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬০০ ফিলিস্তিনি।

আজ শুক্রবার বার্তাসংস্থা আনাদোলু এবং সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ হাজার ৬১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ১২ হাজার ৯৫০ জন।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে থাকা অনেকের কাছে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, দক্ষিণ গাজার রাফাহতে স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন দিনে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৫৯০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর থেকে হামলার মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাফাহতে তাদের স্থল আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে এবং তারা বেইত লাহিয়া শহর ও উত্তর দিকের কেন্দ্রীয় এলাকায় অগ্রসর হচ্ছে। একইসঙ্গে, গাজার উত্তর-দক্ষিণ প্রধান সড়ক বন্ধ করে দিয়ে হামলা আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ নিতে তেল আবিবে রকেট হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস। হামাসের সামরিক শাখা ইজেদাইন আল-কাশেম ব্রিগেডস জানিয়েছে, গাজার বেসামরিক নাগরিকদের উপর ইসরায়েলি ‘গণহত্যার’ প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গাজা থেকে ছোড়া একটি প্রোজেক্টাইল প্রতিহত করা হয়েছে এবং আরও দুটি জনবসতিহীন এলাকায় আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে তারা।

গাজায় ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও প্রাণহানিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও সাহায্য পৌঁছানোর আহ্বান জানাচ্ছে।