ফিলিস্তিনের গাজার শিশুদের জন্য এক বিভীষিকা শুরু হয়েছিল গত ৭ অক্টোবর, যখন ইসরায়েলের আক্রমণে অনেক শিশু নিহত হয়েছিল। গাজার ফুটফুটে শিশু বানান আল–সালোউতের প্রথম জন্মদিন পালন হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়, এবং তার মতো আরও অনেক শিশু ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। গাজার গতি পরিবর্তনের প্রতীক্ষায় থাকা শিশুদের স্বপ্ন একেবারে শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ১৮ হাজারশিশু মারা গেছে ইসরায়েলি আক্রমণে, যার মধ্যে রয়েছে হুর আল–সালোউত, সালমাহ এসলিয়েহসহ অনেক নির্দোষ শিশু। খবর: আল জাজিরা
গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু গত মঙ্গলবার ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গত বুধবার পর্যন্ত নতুন হামলায় ৫৯১ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২০০ জন শিশু। জাতিসংঘ ইসরায়েলের এই হামলাকে ‘বর্বর ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়েছে। এই হামলার ফলে, গাজায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং হাসপাতালগুলো সংকটের মধ্যে কাজ করছে।
গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের পরিচালক মারওয়ান আল-সুলতান জানাচ্ছেন, সেখানে তীব্র সংকট চলছে। আহতদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং অক্সিজেন, ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেক শিশু মারা যাচ্ছে চিকিৎসার অভাবে।
ইসরায়েলের হামলার ফলে, শুধু শিশুদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে না, বরং তারা মানসিকভাবে গভীর আঘাতও পাচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার-প্রধান টম ফ্লেচার গত জানুয়ারিতে বলেছেন, গাজার শিশুদের অনেকেই ভয়াবহ মানসিক আঘাতের শিকার হয়ে গেছে। এছাড়া, গাজার প্রায় ৩১ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, যার ফলে শিশুমৃত্যু ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
গাজায় একের পর এক হামলা, জীবনযাত্রার সংকট এবং যুদ্ধের ফলে, শিশুদের শৈশব ও ভবিষ্যত পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই মানবিক সংকটের সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। গাজার শিশুদের রক্ষায় যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করতে হবে, এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউনিসেফ এবং গাজাবিষয়ক আরব-ইসলামিক এক্সট্রাঅর্ডিনারি সামিট।
এদিকে, গতকাল থেকে আবারও স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল, যা গাজার দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে নতুন সহিংসতা সৃষ্টি করছে। হামাসও দক্ষিণ গাজা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট হামলা করেছে, তবে সামরিক বাহিনী সেগুলি প্রতিহত করেছে।
বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই নৃশংসতা বন্ধে ‘নৈতিক’ ও ‘আইনগত’ দায়িত্ব পালনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, তা জানিয়েছে গাজার আরব-ইসলামিক কমিটি। যুদ্ধবিরতি না হলে, গাজার শিশুদের ভবিষ্যত আরও অন্ধকার হতে পারে।