১৪ চার ১১ ছক্কায় রেকর্ড গড়লেন সাহিবজাদা

আগেরদিন হাসান নাওয়াজ করেছেন পাকিস্তানের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরিটি। পরদিনই আবার ঘরোয়া ক্রিকেটে রেকর্ড গড়লেন দেশটির আরেকটি রেকর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি সাহিবজাদা ফারহান। তবে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে চলমান ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে অবিশ্বাস্য ফর্মে আছেন এই ওপেনার। টানা চার ইনিংসে পেরিয়েছেন পঞ্চাশের গণ্ডি, যার মধ্যে রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি। সবশেষ ইনিংসে ১৬২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে রেকর্ডবুকে জায়গা করে নিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। 

পেশাওয়ার রিজিয়নের হয়ে মুলতান ক্রিকেট গ্রাউন্ডে কোয়েটা রিজিয়নের বিপক্ষে ফারহান খেলেন ৭২ বলে অপরাজিত ১৬২ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস। ১৪টি চার ও ১১টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে এটি পাকিস্তানের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ এবং বিশ্ব ক্রিকেটে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। 

ফারহানের সমান ১৬২ রানের ইনিংস আছে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (জিম্বাবুয়ে), হাজরাতউল্লাহ জাজাই (আফগানিস্তান) ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের (দক্ষিণ আফ্রিকা)। তার ওপরে আছেন শুধু অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ (১৭২ রান) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল (১৭৫ রান)। 

পাকিস্তানের মাটিতে এতদিন স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক ছিলেন কামরান আকমল। ২০১৭ সালে লাহোর হোয়াইটসের হয়ে ইসলামাবাদের বিপক্ষে অপরাজিত ১৫০ রান করেছিলেন তিনি। সেই রেকর্ড ভেঙে ফারহান এখন এককভাবে শীর্ষে। পাকিস্তানের মাটিতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও আকমলের, ১২টি। ফারহানের ইনিংসে ছিল ১১টি ছক্কা। 

এবারের আসরে ফারহানের চারটি ইনিংস—১১৪, ৬২, ৭৬ ও ১৬২। চার ইনিংসে তার মোট রান ৪১৪, গড় ২০৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৮৯.৯০। আসরে তার পরবর্তী সর্বোচ্চ রানের মালিকের সংগ্রহ আড়াইশও পেরোয়নি। 

২০১৮ সালে পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় ফারহানের। তবে ৯ ইনিংসে তার সংগ্রহ মাত্র ৮৬ রান, গড় মাত্র ৯.৫৫। ২০২৪ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করে দলে ফিরলেও টিকে থাকতে পারেননি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাকে আবারও জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। 

পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার এই দাপুটে ফর্ম নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, জাতীয় দলের দরজা আবারও তার জন্য খুলে যায় কি না।