মাত্র ২৫ টাকা পাওনা নিয়ে শুরু হওয়া তুচ্ছ বিরোধ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিল। বরিশালের সদর উপজেলার বুখাইনগর বাজারে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে যুবদল নেতা মেহেদী সিকদার ও ছাত্রদল নেতা শামীম হোসেনকে। এমন অভিযোগ উঠেছে চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম মাসুমের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের স্বজনদের দাবি, বিএনপি নেতা মাসুমের ইন্ধনেই এই হামলা হয়েছে। তবে মাসুম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুখাইনগর বাজারের দোকানদার রনি বহিরাগত তামিমের কাছে ২৫ টাকা পাওনা ছিলেন। কয়েকদিন আগে সেই টাকা চাওয়ায় তামিম রনিকে মারধর করেন। এ নিয়ে বাজারে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পর্যন্ত যায়।
পরে পুলিশ বাজার কমিটিকে বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দেয়। শনিবার দুপুরে স্থানীয় বাজার কমিটির নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করেন। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম মাসুমের অনুসারী বাদল খান ছাত্রদল নেতা শামীম হোসেনকে থাপ্পড় দেন।
এই ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। বাদল খান, তুহিন, তামিমসহ কয়েকজন শামীমকে ধরে পাশের একটি গলিতে নিয়ে গিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর শুরু করে।
এ সময় যুবদল নেতা মেহেদী সিকদার শামীমকে উদ্ধার করতে গেলে বাদল ও জিহাদ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা হামলাকারীদের কয়েকজনকে ধরে গণধোলাই দেয়।
আহত মেহেদী সিকদার বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব এবং বুখাইনগর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক। অপর আহত শামীম হোসেন চরমোনাই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক।
দুজনকেই গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেহেদীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহত যুবদল নেতা মেহেদী সিকদার বলেন, ‘বিএনপি নেতা মাসুম আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয় দেন। তার নেতৃত্বে তার দুই ছেলেসহ বাদল, তুহিন আমাকে মারধর করে। পরে তারা বাসা থেকে দা এনে আমাকে কুপিয়ে আহত করে।’
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম মাসুম। তিনি বলেন, ‘আমি বাজারে গিয়েছিলাম শালিস মীমাংসা করতে। মারধরের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই, এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ‘মেহেদী শিকদারের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়রা জানান, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে বাজারের একটি সাধারণ পাওনা আদায়ের ঘটনাও রক্তাক্ত সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।