ঐকমত্য কমিশনের ২২ প্রস্তাবে একমত নয় এনসিপি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে সংস্কার লিখিত মতামত জমা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রবিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে দলটির সংস্কার সমন্বয় কমিটির সদস্যরা মতামত জমা দেন।

পরে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দলটির সংস্কার সমন্বয় কমিটির কো-অর্ডিনেটর সারোয়ার তুষার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ঐকমত্য কমিশনের ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ২২টি প্রস্তাবে এনসিপি একমত হতে পারেনি। তবে, কমিশনের ১১৩ প্রস্তাবে পুরোপুরি একমত ও ২৯ প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করেছেন তারা।

এনসিপির মতে, সংবিধান-সম্পর্কিত বিষয়গুলোর জন্য গণপরিষদ নির্বাচন প্রয়োজন। তবে যে সুপারিশগুলো সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, সেগুলো অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মনে করছে দলটি।

এনসিপি দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদদের বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। তবে তাদের মতে, নির্বাচনের আগেই উচ্চকক্ষের প্রার্থী কারা, তা দলগুলোকে ঘোষণা করতে হবে। কারণ, নির্বাচনে একজন ভোটার একটি দেবেন। সে ক্ষেত্রে তার জানার অধিকার আছে উচ্চকক্ষে কারা যাচ্ছেন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ২টি কমিশন আমাদের কাছে স্প্রেডসিট পাঠায়নি। একটা হচ্ছে পুলিশ সংস্কার কমিশন, আরেকটা স্থানীয় সংস্কার কমিশন। এই রিপোর্টগুলো আমরা দেখতে পাইনি। এই ব্যাপারে কমিশনের অবস্থান জানতে চেয়েছি।

মতামতে এনসিপি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার হতে হবে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের মেয়াদ ৭০ থেকে ৭৫ দিন হতে পারে। একটা পর্যায়ে গিয়ে এই সরকারের প্রয়োজন হবে না। সংবিধানে যে সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই কাউন্সিলে এই দায়িত্ব নিতে পারে।