শ্রীপুর

৫০ হাজার মুক্তিপণে কলেজছাত্রের মুক্তি, পুলিশ বলছে সন্দেহজনক

গাজীপুরের শ্রীপুরে অপহরণে শিকার এক যুবককে মুক্তিপণের ৫০ হাজার টাকায় ফিরে পেল পরিবার।  রবিবার (২৩ মার্চ) ভোরে অপহরণকারীরা অজ্ঞাত স্থানে তাকে ফেলে গেলে লোকজন উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে। এর আগে গত শুক্রবার রাতে কাওরাইদ বাজার এলাকা থেকে জামান অপহরণে শিকার হন। পিস্তল ঠেঁকিয়ে তাকে কৌশলে অপহরণ করা হয়। তবে পুলিশ বলছে বিষয়টি সন্দেহের। আরও বেশ কিছু বিষয় মাথায় রেখে পুলিশ তদন্ত করছে ।

অপহরণে শিকার ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ জামান মিয়া (২৪)। তিনি পূর্ব সোনাব গ্রামের সৌদি প্রবাসি আবদুস শহীদ মিয়ার ছেলে। তিনি মাওনা পিয়ার আলী সরকারি কলেজে সমাজকর্ম বিষয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় শনিবার জামানের মা জরিনা আক্তার শ্রীপুর থানায় একটি অপহরণের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।  এর পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেন।  

অপহরণে শিকার কলেজ ছাত্র জামানের মা জরিনা আক্তার বলেন, কাওরাইদ বাজারে গিয়ে একটি ফেক্সিলোডের দোকান থেকে টাকা নেওয়ার সময় এক ব্যক্তি কৌশলে পিস্তল ঠেঁকিয়ে আমার ছেলে জামানকে অপহরণ করে। পরে অনেক রাতে আমার ছেলের ফোন নাম্বার থেকে ফোন আসে আর অপহরণকারীরা দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় আমার ছেলেকে মারধরও করে অপহরণকারীরা। আমার ছেলের প্রাণ ভিক্ষা চাইছি তাদের কাছে। আমার একটাই পোলা (ছেলে)। আমরা গরীব মানুষ এতো টাকা কোথায় থেকে দিব বলে তাদের কাছে আকুতি জানিয়েছি। পরে সুদে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের দিয়েছি। আজ সকালে আমার ছেলে বাড়ি ফিরেছে। 

তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল।

অপহরণে শিকার জামান মিয়া বলেন, রাত সাড়ে নয়টার দিকে আমি একটি দোকান থেকে মোবাইলে টাকা লোড করছিলাম। এ সময় বেশ নিরিবিল পরিবেশ ছিল বাজারে। রমজান মাস হওয়ায় তারাবিতে মানুষ থাকায় বাজার অনেকটাই ফাঁকা ছিল। এরপর এক ব্যক্তি আমার পাশে দাঁড়িয়ে আমার পরিচয় জানতে জানতে কৌশলে আমার পেটে পিস্তল ধরে চুপ থাকতে বলেন। এরপর পাশের একটি বটতলে নিয়ে আমাকে একটি সাদা গাড়িতে তুলে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। 

তিনি বলেন, গায়ে পিস্তল ঠেঁকালে আমি ভয়ে চুপসে গিয়েছিলাম। কোনো শব্দ করতে পারিনি। পরে অন্তত চার পাঁচ ঘণ্টা গাড়ি চলার পর একটি অন্ধকার ঘরে নিয়ে আটকে বাড়িতে ফোন দেয়। পরে বাড়ির লোকজন ৫০ হাজার টাকা ম্যানেজ করে আমাকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন।

তিনি বলেন, ওই গাড়িতে অন্তত ৫/৬ জন লোক ছিল বলে ধারণা করছি। তাদের অনেক কথাবার্তা থেকে এটি ধারণা হয়েছে। আজ ভোরে নরসিংদীর ইটা খোলা এলাকায় আমাকে ফেলে গেছে। পরে লোকজন আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়।
 
মামলার তদন্ত অফিসার শ্রীপুর মডেল থানার এসআই সুজন পন্ডিত বলেন, অপহরণের বিষয়টি সন্দেহজনক। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করলে অপহরণে শিকার হওয়া ছেলেটি বাড়ি চলে আসে। তার লোকেশন ট্যাগ করে বেশ কিছু কথাবার্তার অমিল পাওয়া গেছে। আমরা আরও তদন্ত করছি। এরপর বিষয়টি আরও পরিস্কার হওয়া যাবে।
 
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্রী নয়ন কর বলেন, এটি নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যে ভিকটিম বাড়ি চলে আসে। এখনো পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আছে। আরও তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।