বৈষম্য ও বিভেদহীন দেশ গড়ার প্রত্যয়

বৈষম্য-বিভাজনহীন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে জাতি উদযাপন করল মহান স্বাধীনতা দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজধানী ঢাকাসহ সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাত্তরে আত্মদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এবং অন্যদের শ্রদ্ধা জানিয়ে নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার ভোর থেকে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাঙালি জাতির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার অভিযানের পর রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের সূচনা হয়। ৯ মাস পর একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর দখলদারমুক্ত হয় বাংলাদেশ এবং পৃথিবীতে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে দেশবাসী। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৮ জোড়া নতুন কমিউটার ট্রেনের উদ্বোধন হয়েছে। ঢাকা-নরসিংদী কমিউটার ট্রেনও উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে স্মৃতিসৌধে প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ৬টা ১১ মিনিটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সে সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রধান উপদেষ্টা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রধান উপদেষ্টার পর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা শ্রদ্ধা জানান। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর একে একে বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। তবে এবার রমজান এবং ঈদের আগ মুহূর্তে হওয়ায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি অন্যান্য বছরের তুলনায় কম ছিল।

সকাল সোয়া ৬টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তার সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা সবাই ঐকমত্য পোষণ করব। জনগণকে আস্থায় আনতে যে সংস্কারগুলোর দাবি জনগণ তোলে সেগুলোর বিষয়ে ঐকমত্যে না পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই।’

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরে স্বাধীনতার কনসেপ্টকে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ’২৪ সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। আর কখনোই একটি স্বাধীন ভূখন্ডের মানুষ পরাধীন বোধ করবে না।’

সকাল ৮টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিএনপি নেতারা। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী; ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ইরফান ইবনে আমান; ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যারা আজকের স্বাধীনতা দিবসকে খাটো করতে চান, একাত্তরের স্বাধীনতায় তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। আজকের স্বাধীনতা দিবস প্রমাণ করে দিয়েছে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে বাংলাদেশে কিছু নেই।’

সকাল পৌনে ৯টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) নেতারা। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘৭১ এবং ২৪ আলাদা কিছু নয়।’

‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আটক ৩ : জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যানার নিয়ে ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মিছিল করায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় সংসদের মহাসচিব সেলিম রেজা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য মো. শহীদুল ইসলাম এবং ঢাকার আশুলিয়া থানার দক্ষিণ গাজীরচট শেরআলী মার্কেট এলাকার মো. সোহেল পারভেজ। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিনুর কবির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সকালে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার সময় ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আলম সুমন ও সাভার পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার মাদবরের ওপর হামলা চালানোর অভিযাগ উঠেছে। অবিলম্বে ‘আওয়ামী অনুপ্রবেশকারীদের’ বহিষ্কারের দাবি জানান সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসান মাসুম।

রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার শ্রদ্ধা : স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। গতকাল সকাল ৮টায় রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ স্মৃতিসৌধে তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সে সময় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, র‌্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এরপর বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মতিউর রহমান শেখের নেতৃত্বে অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা, বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) নেতারা শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। সে সময় বিজিবির একটি সুসজ্জিত দল ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা ও অন্যান্য পদবির সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে খতমে কোরআন, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতা আমাদের প্রেরণার উৎস, গৌরবের স্মারক।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক আ. ছালাম খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের : বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশের জনগণকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কোর রুবিও। গতকাল ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস মার্কোর রুবিওর বরাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে মার্কো রুবিও বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এ বছরের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন  অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন অন্তর্র্বর্তী সরকার দেশকে এমন একটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একটি উজ্জ্বল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রায় সর্বদা পাশে রয়েছে। আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বিবৃতিতে মার্কো রুবিও আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন এই বিশেষ দিবসটি উদযাপন করছে, আমি দেশটির জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং উভয় দেশের জন্য একটি নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অটুট অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।’

কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায় চীন : বাংলাদেশের ৫৪তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। গতকাল বুধবার চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম সিএমজি এ খবর জানিয়েছে।

অভিনন্দন বার্তায় শি জিনপিং উল্লেখ করেছেন, গত অর্ধশতাব্দীতে, চীন ও বাংলাদেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতির ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নত করেছে। দুই দেশ সবসময় পরস্পরকে সম্মান করেছে, সমতাসম্পন্ন আচরণ করেছে এবং সহযোগিতা করেছে। তিনি আরও বলেছেন, দুই দেশের বিভিন্ন খাতের সহযোগিতা ফলপ্রসূ হয়েছে, যা দুই দেশের জনগণের জন্য বাস্তব কল্যাণ বয়ে এনেছে।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শি বলেন, বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী এবং ‘চীন-বাংলাদেশ মানবিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বর্ষের’ সুযোগে, দুই দেশের উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ নির্মাণ এবং দুই দেশের সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের সম্পর্কের অব্যাহত উন্নয়ন জোরদার করতে চান তিনি। একই দিন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও অভিনন্দন বাণী পাঠিয়েছেন।

অংশীদারত্বের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ভারত : ভারত শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ, উদ্বেগ ও স্পর্শকাতরতায় গুরুত্ব দিয়ে অংশীদারত্বের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জাতীয় দিবসে অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো এক বার্তায় এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের জনগণকে জাতীয় দিবসে অভিনন্দন জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বার্তায় বলেন, ‘দুই দেশের ত্যাগ ও ইতিহাসকে ভিত্তি করে যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে উঠছে, সেখানে স্মারক হিসেবে ২৬ মার্চের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তার লাভের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণ লাভবান হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলোকবর্তিকা হয়ে রইবে।’

বাংলাদেশের জাতীয় দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল বুধবার আলাদা বার্তায় যথাক্রমে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে পাঠানো বার্তায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ‘ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথমে’, ‘পূর্বমুখী সক্রিয়তা’ এবং ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নীতির কেন্দ্রে আছে বাংলাদেশ। তাই গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বহুমুখী। এক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বহুমাত্রিক যোগাযোগ, উন্নয়ন অংশীদারত্ব, জ্বালানি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও মানুষে-মানুষে আদান-প্রদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।